ইসরায়েলি পারমাণবিক স্থাপনার কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২২ মার্চ) : দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা শহরে একটি পারমাণবিক স্থাপনার কাছে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএএইএ) জানিয়েছে, ডিমোনার প্রায় আট মাইল (১৩ কিমি) বাইরে অবস্থিত পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রটির কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তারা অবগত নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শনিবার সকালে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আইএএইএ বলেছে, ওই ঘটনার পর স্থাপনার বাইরের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বাড়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রদর্শন করা উচিত, বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে’।
ইসরায়েলের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা জানিয়েছে, ডিমোনায় হামলার পর তারা ৪০ জনের চিকিৎসা করছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জনের আঘাত সামান্য এবং ১০ বছর বয়সী এক বালক গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিকটবর্তী শহর আরাদে একটি পৃথক হামলায় আরো ৬৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাদের মধ্যে ৪৭ জনের আঘাত সামান্য এবং ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।
আরাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে এক বিবৃতিতে জরুরি চিকিৎসা কর্মী ইয়াকির তালকার বলেন, ‘অত্যন্ত ভয়াবহ দৃশ্য।’ তিনি আরো বলেন, ‘সেখানে বিভিন্ন মাত্রার আঘাত নিয়ে বহু আহত ব্যক্তি রয়েছেন।’ কিভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে পৌঁছাল, তা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত করছে।
ইসরায়েলি দমকলকর্মীরা বলেছেন, ‘ডিমোনা এবং আরাদ উভয় স্থানেই ইন্টারসেপ্টর উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এগুলো হুমকিগুলোকে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়, ফলে শত শত কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি সরাসরি আঘাত হানে।’
নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত শিমন পেরেস নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রটি ‘ডিমোনা রিঅ্যাক্টর’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এটি ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার হিসেবে স্বীকৃত। আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়, এই স্থানটি শুধুমাত্র গবেষণার কাজেই নিয়োজিত।
কিন্তু ইসরায়েল সেখানে একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছে বলে বলা হয়। যদিও সরকার এ বিষয়ে অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছে।
এর ফলে ইসরায়েলই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তাই একে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এমন যেকোনো ইঙ্গিতকে ইসরায়েল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির যেকোনো সম্ভাব্য সক্ষমতা নির্মূল করতেই এই যুদ্ধ শুরু করেছে।
ইরানের নিজস্ব পরমাণু শক্তি সংস্থা (এওইআই) নাতাঞ্জের ওপর হামলাটিকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিঃসরণের খবর পাওয়া যায়নি এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কোনো ঝুঁকি ছিল না।’
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রথম দিকেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এবং জুনে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালেও নাতাঞ্জ লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। শনিবার নাতাঞ্জ বিষয়ে জানতে চাইলে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকে জানায়, ‘ওই এলাকায় কোনো হামলার বিষয়ে তারা অবগত নয়।’
সূত্র : বিবিসি
মনোয়ারুল হক/
