হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি কড়া হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২২ মার্চ) : ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এই হুমকি দিয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই জলপথটি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার এই বিবৃতিটি প্রকাশ পায়।

গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সুরক্ষিত করার ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি তৈরি হওয়াতে ট্রাম্প এমন হুমকি দিলেন। এদিকে ইরান ‘শত্রু জাহাজ’ এই পথে চলাচল করতে দিবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে এবং শেয়ারবাজারের পতন ঘটছে।

ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যদি ইরান ঠিক এই মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে খুলে না দেয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হেনে সেগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে, যার শুরুটা হবে সবচেয়ে বড়টি দিয়ে।

’তিনি কোন কেন্দ্রটিকে সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।

ট্রাম্পের এই হুমকির পর ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, ‘যদি ইরানের জ্বালানি ও শক্তি পরিকাঠামোতে হামলা করা হয়, তবে তারা এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন পারমাণবিক আলোচনায় ছিল। আলোচনার মধ্যেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মিলে ট্রাম্প ইরানে হামলা চালায়।

এরপর সেই শুরু হওয়া যুদ্ধ গুটিয়ে আনার কথা বলার ঠিক এক দিন পরেই ট্রাম্প ফের এই উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টা গুটিয়ে আনার কথা বিবেচনা করার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।’

এদিকে ইরান ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, এতে অন্তত ৪৭ জন আহত হয়েছেন। লক্ষ্যবস্তু ছিল প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি পারমাণবিক স্থাপনা। এ হামলায় আহতদের নিকটবর্তী শহর আরাদের হাসপাতালে অন্তত ৮৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা ছিল।’

এর আগে তেহরান জানিয়েছে, ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল। দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কোনো বিপদ নেই।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘এই সপ্তাহে একটি ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনায় মার্কিন বোমাবর্ষণ করার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়ার তেহরানের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

এই সংঘাতজুড়ে ইরানি বাহিনী বারবার উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। জি৭-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আরো বলেছেন, এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় তারা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে সমর্থন করার জন্য ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

দেশে স্থানীয়রা যখন নতুন বছর উদযাপন করছে, তখনও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এক নারী বিবিসিকে বলেন: ‘এটাকে নতুন বছর বলে মনে হচ্ছে না… এটা বিষণ্ণ।’ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে এবার ঈদের আনন্দও ফিকে হয়েগেছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ