ঈদের আগেই চুলের যত্নে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি
লাইফস্টাইল ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৬ মার্চ) : ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার প্রস্তুতি। নতুন পোশাক, মেকআপ কিংবা অ্যাক্সেসরিজের পাশাপাশি সৌন্দর্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চুল। সুন্দর, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত চুল পুরো লুককে করে তোলে আরও আকর্ষণীয় ও পরিপূর্ণ। তাই ঈদের আগেই চুলের যত্নে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি। লিখেছেন রোদসী
চুলের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়া
চুল সুন্দর রাখার প্রথম ধাপ হলো নিজের চুলের ধরন সম্পর্কে জানা। কারও চুল শুষ্ক, কারও তৈলাক্ত আবার কারও চুল স্বাভাবিক। চুলের ধরন অনুযায়ী যত্ন না নিলে নানা সমস্যা যেমন–চুল পড়া, রুক্ষতা, খুশকি বা আগা ফাটা দেখা দিতে পারে। শুষ্ক চুলের জন্য প্রয়োজন বেশি ময়েশ্চার, আর তৈলাক্ত চুলের ক্ষেত্রে দরকার পরিষ্কার রাখার যত্ন। তাই একই পদ্ধতি সবার জন্য কার্যকর নাও হতে পারে।
নিয়মিত তেল ম্যাসাজের গুরুত্ব
ঈদের আগে চুলকে প্রাণবন্ত করতে তেল ম্যাসাজ অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন নারিকেল তেল, বাদাম তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়। এতে চুল পড়া কমে এবং চুল স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে পায়।
সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচন
অনেকেই ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করে ফেলেন। ঈদের আগে চুল পরিষ্কার রাখতে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার যথেষ্ট। শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত, কারণ এটি চুলকে নরম ও মসৃণ রাখে।
প্রাকৃতিক হেয়ার প্যাকের ব্যবহার
ঘরে বসেই সহজ উপকরণ দিয়ে চুলের যত্ন নেওয়া সম্ভব। ডিম, দই, অ্যালোভেরা, মেথি বা কলা দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক চুলে প্রাকৃতিক পুষ্টি জোগায়। সপ্তাহে একদিন হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে চুলের রুক্ষতা কমে এবং চুল হয়ে ওঠে ঝলমলে। বিশেষ করে ঈদের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকে নিয়মিত হেয়ার প্যাক ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
তাপ ব্যবহার কমানো জরুরি
স্ট্রেইটনার, কার্লার বা ব্লো ড্রায়ারের অতিরিক্ত ব্যবহার চুলের ক্ষতি করে। ঈদের সাজের জন্য চুলে স্টাইলিং প্রয়োজন হলেও আগে থেকেই অতিরিক্ত হিট ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজনে হিট প্রোটেকশন সিরাম ব্যবহার করলে চুল কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।
সুষম খাদ্য ও পানির ভূমিকা
চুলের সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক যত্নে নয়, অভ্যন্তরীণ পুষ্টির সঙ্গেও জড়িত। পর্যাপ্ত পানি পান, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ডিম, মাছ, বাদাম ও সবুজ শাক চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঈদের প্রস্তুতির ব্যস্ততার মাঝেও খাদ্যাভ্যাসে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
ঈদের আগে ট্রিমিং
চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত ট্রিমিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। অনেক সময় চুলের আগা ফেটে গেলে তা ধীরে ধীরে পুরো চুলকে রুক্ষ ও প্রাণহীন করে তোলে। ফলে যতই পরিচর্যা করা হোক না কেন, চুলে কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা ফিরে আসে না। তাই ঈদের অন্তত এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে চুলের আগা সামান্য ছেঁটে নেওয়া ভালো। এতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দূর হয়ে চুল দেখতে আরও ঘন, স্বাস্থ্যকর ও গোছানো লাগে।
ঈদের দিনের সহজ হেয়ার স্টাইল
চুল সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন থাকলে খুব সাধারণ হেয়ার স্টাইলও হয়ে উঠতে পারে দৃষ্টিনন্দন। ঈদের দিনে ভারী বা জটিল স্টাইলের পরিবর্তে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হেয়ার লুক এখন বেশি জনপ্রিয়। খোলা চুলের সফট ওয়েভ বা হালকা কার্ল মুখের সৌন্দর্যকে কোমল ও আকর্ষণীয় করে তোলে, যা দিনের বেলা কিংবা পারিবারিক আড্ডার জন্য আদর্শ।
যারা একটু পরিপাটি ও এলিগ্যান্ট লুক চান, তারা লো বান বা মেসি বান স্টাইল বেছে নিতে পারেন। শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ দুই ধরনের পোশাকের সঙ্গে এই স্টাইল সহজেই মানিয়ে যায়। চাইলে ছোট ফুল, হেয়ার পিন বা মিনিমাল অ্যাক্সেসরিজ ব্যবহার করে লুকে যোগ করা যায় উৎসবের ছোঁয়া।
লিখেছেন রোদসী
মনোয়ারুল হক/
