বিতর্কিত শিরিন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে বিসিসির প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক (বরিশাল), এবিসিনিউজবিডি, (১৬ মার্চ) : বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনকে। আজ সোমবার দুপুরে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ১৪ মার্চ শিরিনকে বিসিসির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ নগরীর বিভিন্ন মহলে পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শিরিনের বিরুদ্ধে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডে একটি ঐতিহ্যবাহী পুকুর ভরাট, বাড়ি দখল, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে টানা আড়াই মাসের আন্দোলনে দল থেকে দেওয়া অর্থ তছরুপ, বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি করার ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা অভিযোগ ওঠে বিলকিস জাহানের বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের ১১ আগস্ট বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিনের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে বিএনপির কেন্দ্র থেকে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, শিরিনকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় একটি পুরোনো পুকুর ভরাটের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া বাড়ি দখল এবং দলীয় কমিটি গঠনসংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও নিয়মিতভাবে স্থানীয় রাজনীতিতে উঠে এসেছে।

বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, শিরিনকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা। তারা আশা করছেন, নতুন দায়িত্বে তিনি নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

নাগরিকদের অভিমত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় নগর প্রশাসনের সেবা কার্যত শূন্যে নেমে গেছে। তাদের মতে, বর্তমান সরকার নগর ব্যবস্থাপনার তৎপরতা বজায় রাখার জন্য প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, নগরীর ঐতিহ্যবাহী একটি পুকুর দখলের সঙ্গে যে ব্যক্তির নাম যুক্ত রয়েছে, তাকে দিয়ে নগর ভবন ও নাগরিক সেবা কতটা স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। নাগরিকরা আশা করছেন, নতুন প্রশাসক দায়িত্ব পালনের সময় এই বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন। ভবিষ্যতে কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

অন্যদিকে শিরিনের সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘদিন বিরোধী দলের রাজনীতি করার কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে হয়রানি ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চাপেই এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।

কিছু স্থানীয় নাগরিক মনে করছেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া উচিত ছিল। তারা বলছেন, পুরোনো অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

শিরিন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে পড়াশোনার সময় ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন। ১৯৮৭ সালে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে এজিএস নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি হন।

পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে বরিশাল জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন। একই বছর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন।

এরপর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন শিরিন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি শিরিন বরিশাল সিটি কলেজে প্রায় এক দশক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। বর্তমানে তিনি আইন পেশার সঙ্গেও যুক্ত।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ