আকস্মিক কালবৈশাখী, বৃষ্টি ও শিলায় লণ্ডভণ্ড বইমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৩ মার্চ) : গুমোট আবহাওয়ার শঙ্কা সত্যি করে শুক্রবার সন্ধ্যায় নামল ঝুম বৃষ্টি আর শিলা। ছুটির আমেজ বিষাদে রূপ নিল আকস্মিক কালবৈশাখীতে। একদিকে বই বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে আশ্রয়ের খোঁজে পাঠক-লেখকদের ছোটাছুটি।

শুক্রবার ছুটির দিনে বিকেল থেকেই পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের পদচারণায় মুখর ছিল মেলাপ্রাঙ্গণ। তবে আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখে আগেভাগেই মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছিল। প্রকাশক ও স্টল কর্মীদের বই নিরাপদে রাখা এবং ঝোড়ো হাওয়া শুরু হলে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আকাশ ভেঙে নামে বৃষ্টি। বড় বড় শিলার আঘাতে পাঠক-দর্শনার্থীরা দিগিবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ছুটতে থাকেন। ইফতার পরবর্তী আড্ডায় মশগুল লেখক ও পাঠকরা আটকা পড়েন বিভিন্ন স্টলের নিচে।

বৃষ্টির তোড়ে অনেক স্টলে পানি ঢুকে বই ভিজে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অ্যাডর্ন পাবলিকেশনসের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসেন আজ রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানান, তিনিসহ কয়েকজন প্রকাশক কলি প্রকাশনীর স্টলে আটকা পড়েন।

তিনি বলেন, ‘ভালো ত্রিপাল দিয়ে স্টল মুড়ে রাখলেও পানি চুইয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। রাতে বড় ঝড় হলে অনেক স্টলের টিন উড়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে।’

একই চিত্র দেখা গেছে আগামীর স্টলে। স্টল ব্যবস্থাপক আমিরুল ইসলাম জানান, সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তারা পানি ঢোকা ঠেকাতে পারেননি, ফলে তাদের বেশ কিছু বই ভিজে নষ্ট হয়েছে।

রাত ৮টার পর পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে দাঁড়ায়। কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় প্রকাশনী কর্মী ও পাঠকদের মুঠোফোনের আলোয় পথ চলতে দেখা গেছে। অনেক স্টলকর্মীকে বৃষ্টিতে ভিজে রাতভর বই আগলাতে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন মেলা প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। বিদ্যাপ্রকাশের প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান খোকা ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় দেখান, স্টলের শামিয়ানা থেকে অঝোর ধারায় পানি পড়ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় পড়েছেন মুক্তমঞ্চের পাশের লিটল ম্যাগাজিন কর্মীরা।

বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে মেলা ছাড়তে হয়েছে অনেককে। কবি শামীম আজাদ সামাজিক মাধ্যমে জানান, মেলায় এসে বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে তিনি বাড়ি ফিরছেন।

রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করছেন আয়োজক ও প্রকাশকরা। তবে বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ