‘জীবনে প্রথম একসঙ্গে ৯ কবর খুঁড়লাম, হাত কাঁপছিল’: গোরখোদক মুজিবর
নিজস্ব প্রতিবেদক (বাগেরহাট), এবিসিনিউজবিডি, (১৩ মার্চ) : বাগেরহাটের রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যদের দাফনের জন্য এই কবরগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে খোঁড়া কবরগুলোতে তাদের দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
মোংলা কবরস্থানের খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির বলেন, ১৭ বছর ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু কখনও এক সঙ্গে একই পরিবারের এত সদস্যের জন্য কবর খুঁড়তে হয়নি। পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়তে গিয়ে হাত কাঁপছিল। খুব কষ্ট লাগছিল।
তিনি জানান, পরিবারের সম্মতিতেই একই জায়গায় পাশাপাশি কবরগুলো খোঁড়া হয়েছে, যাতে স্বজনরা একই স্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকতে পারেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় যখন নিহতদের মরদেহ মোংলার শেওলাবুনিয়ায় পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকা যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। শত শত মানুষ ছুটে আসেন শেষবারের মতো তাদের দেখতে। চারদিকে শুধু কান্না আর শোকের মাতম।
আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির ভেতরে রাখা হয়েছে পরিবারের নিহত চার নারীর মরদেহ। আর উপজেলা পরিষদ চত্বরে রাখা হয়েছে বাকি পাঁচজনের মরদেহ। আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে আনা হয়েছে ৯টি খাটিয়া। গোসল শেষে একে একে রাখা হয়েছে স্বজনদের নিথর দেহ।
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ সরদার বলেন, রাজ্জাক ভাই ছেলের বিয়ে দিয়ে নতুন বউ ঘরে তুলবেন এই আনন্দ নিয়ে সবাই ছিলাম। কিন্তু সেই আনন্দের বিয়েই আজ পুরো পরিবারকে শেষ করে দিল।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের ৯ সদস্যকে মোংলা পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি খোঁড়া ওই ৯টি কবরে দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (সাব্বির)। বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। এরপর মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন।
মনোয়ারুল হক/
