গণভোট, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার সিদ্ধান্তের মালিক জনগণ: আলী রীয়াজ
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৯ জানুয়ারি) : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণভোট, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার–এই তিন ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মালিক জনগণ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) আয়োজিত ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’ শীর্ষক জরিপকেন্দ্রিক গোলটেবিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জরিপের ফলাফল সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে একটি স্পষ্ট মানসিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের দলকেন্দ্রিক ভোটের সংস্কৃতি থেকে সরে এসে ভোটাররা এখন প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, যোগ্যতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভোটারদের এই পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থাপিত জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।’
জরিপটি দেশের পাঁচটি জেলায় পরিচালিত হয়। এতে মোট ৬০০ জন অংশীজন মতামত দেন, যার মধ্যে ৪০০ জন প্রত্যক্ষ এবং ২০০ জন পরোক্ষ অংশগ্রহণকারী ছিলেন। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ভোটাররা এখন আর প্রতীকনির্ভর রাজনীতিতে আস্থা রাখতে চাইছেন না; বরং তারা এমন প্রার্থী চান, যিনি বাস্তব কাজ করবেন এবং এলাকার প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন।
গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ কোনো একক পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া দলিল নয়, এটি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্যভিত্তিক চুক্তি। গণভোট, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার–এই তিন ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মালিক জনগণ।’
এদিকে জরিপের একাধিক তথ্যের মধ্যে উঠে এসেছে, নাগরিকদের বড় একটি অংশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থার সংকটে ভুগছেন। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে জনমনে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জরিপে মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের কথা শোনা গেলেও স্থানীয় পর্যায়ে তার বাস্তব প্রয়োগ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সহিংসতা বাড়ছে
মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। প্রার্থীদের মধ্যে নীতি ও কর্মসূচিভিত্তিক আলোচনার পরিবর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং নেতিবাচক প্রচার বাড়ছে। রংপুর ও ফরিদপুর জেলায় সহিংসতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে স্থানীয় যুবসমাজ বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভোটারদের তিন প্রত্যাশা
সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভোটাররা নির্বাচনের বিষয়ে তিনটি স্পষ্ট প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রশাসন, জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা, ঘোষিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।
এ ছাড়া জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ সচেতন, যা তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার দিকটি তুলে ধরেছে।
গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বিআইই-এর সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির। বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের ডিসটিংগুয়িশড ফেলো ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান। জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চৌধুরী সামিউল হক। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দল ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মনোয়ারুল হক/
