ইরানের ঘাঁটিতে এবার ‘বাঙ্কার বাস্টার’বোমা ফেলল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৮ মার্চ) : হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ঘাঁটিতে ‘বাঙ্কার বাস্টার’বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই তথ্য জানিয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ড, হরমুজ প্রণালী কাছে ইরানের উপকূল বরাবর সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে কয়েকটি ২,২০০ কেজির (৫ হাজার পাউন্ড) ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ফেলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে দাবি, জলপথের এই গোপন ঘাঁটিগুলো থেকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে বাধার সৃষ্টি করছে। তাই ওই ঘাঁটিগুলো উড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তারা যেকোনও উপায়ে হরমুজ প্রণালী সচল করবেই।

হরমুজ প্রণালীর উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পারস্য উপসাগরের উপকূলে রয়েছে— সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক। প্রতিটি দেশই অপরিশোধিত তেলের খনি। এই দেশগুলো থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করা হয়। রফতানির প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হুঁশিয়ারি দেয়, হরমুজ দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না!

হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম থেকেই দাবি করছে, তারা হরমুজ মুক্ত করবেই। প্রয়োজনে নৌবাহিনী পাঠিয়ে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ পার করানো হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ জন্য অন্য দেশের সাহায্যও চেয়েছিলেন। সামরিক জোট ‘ন্যাটো’-র কাছে একই আবেদন করেছিলেন তিনি। যদিও সন্তোষজনক সাড়া না মেলায় ক্ষোভপ্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে না চাওয়াটা ন্যাটোর বড় বোকামি। প্রতি বছর এই দেশগুলোকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করে। অথচ তার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় সমর্থনটুকুও পাওয়া যায় না। এরপরই ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, কারও সাহায্যের কোনও প্রয়োজন নেই ওয়াশিংটনের!

ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী ওই ইরানি ঘাঁটিতে ‘বাঙ্কার বাস্টার’বোমা ফেলার দাবি করল মার্কিন বাহিনী। শুধু হরমুজ প্রণালীর পার্শ্ববর্তী সামরিক ঘাঁটিতে নয়, ইরানের নানা জায়গায় ‘স্থায়ী ক্ষত’ তৈরি করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

হোয়াইট হাউস থেকে তিনি বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই সেখান (ইরান) থেকে সরে যাব। কিন্তু ওদের যা ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করতে ১০ বছর সময় লাগবে। আমি মনে করি, আরও কিছু ক্ষতি করতে হবে, যাতে সেদেশের কোনও প্রেসিডেন্ট হামলার কথা ভাবতে না পারেন।”

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যাতে পারমাণবিক হুমকি হয়ে না দাঁড়ায় তা নিশ্চিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। আর সেই কাজ তারা চালিয়ে যাবে। সূত্র: বিবিসিগালফ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ