নারীদের গৃহস্থালি কাজ অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় অদৃশ্য: জাইমা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৮ জানুয়ারি) : নারীদের গৃহস্থালি কাজ অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় অদৃশ্য থেকে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

তিনি বলেন, ‘শুধু আইন বা নীতি দিয়ে সমতা আনা সম্ভব নয়, যদি না আমাদের মানসিকতা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে নারীদের গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য আমাদের জিডিপির (GDP) প্রায় ১৯ শতাংশ, কিন্তু অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় এটি অদৃশ্য থেকে যায়।’

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা ফোরাম আয়োজিত ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই আলোচনা নারীদের মাধ্যমে জাতি গঠন নিয়ে। তবে ভবিষ্যৎ গড়ার আগে আমাদের বাংলাদেশের নারীদের প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তবতা নিয়ে সৎ হতে হবে। আমাদের নীতি, আইন বা প্রতিষ্ঠানের মুখোমুখি হওয়ার অনেক আগেই আমাদের পরিবারই হয়ে ওঠে আমাদের প্রথম শ্রেণীকক্ষ। সেখানে আমরা শিখি আমাদের জন্য কী সম্ভব এবং সমাজ আমাদের কাছে কী প্রত্যাশা করে। আমার নিজের পরিবারে কিছু বিষয় কখনও প্রশ্নাতীত ছিল।’

উদাহরণ দিয়ে জাইমা বলেন, ‘একজন নারী কি পরিবার সামলে একজন সফল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন? আমার মা সেটি করে দেখিয়েছেন। একজন নারী কি নিজের যোগ্যতায় ‘সুরভি’র মতো একটি জাতীয় সামাজিক সংস্থা গড়তে পারেন? আমার নানি সেটি প্রমাণ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিবারে নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা বা পুরুষদের সঙ্গে সমান মর্যাদা পাওয়া নিয়ে কখনও কোনো সংশয় ছিল না। আমার দাদা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন যে, নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন অসম্পূর্ণ। তার নেতৃত্বেই মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছিল, যা নারীদের জীবনমান উন্নয়নে একটি কাঠামোগত ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমার দাদি বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষাকে সুযোগ নয়, বরং অধিকার হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর সময়ে অবৈতনিক মাধ্যমিক শিক্ষা এবং ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচির মতো উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের লাখো মেয়ের জীবন বদলে দিয়েছে এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা অর্জনে বিশ্বে একটি রোল মডেল তৈরি করেছে।’

নারী-পুরুষের কর্মক্ষেত্রের বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে জাইমা বলেন, ‘বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের হার ৪০ শতাংশের নিচে, যেখানে পুরুষদের হার ৮০ শতাংশের বেশি। অনেক নারী বিয়ের পর বা সন্তান হওয়ার পর কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন, কারণ আমাদের সমাজ ধরে নেয় এই ত্যাগের দায়িত্ব কেবল নারীদেরই। আমি বিশেষভাবে পুরুষদের, বিশেষ করে বাবাদের প্রতি আহ্বান জানাই আপনাদের সমর্থন কেবল শব্দে নয়, কাজে থাকতে হবে।’

জাইমা বলেন, ‘আমি আমার বাবা ও দাদার মতো এমন পুরুষদের সান্নিধ্যে বড় হয়েছি যারা নারীদের সাফল্যে কখনও ঈর্ষান্বিত হননি। আমার বাবা কখনও আমাকে বুঝতে দেননি যে তিনি একটি ছেলের অভাব বোধ করছেন, বরং তিনি সবসময় আমাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাইরের জগত চেনার শিক্ষা দিয়েছেন।’

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ