ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে তামান্না ভাটিয়ার সহজ ঘরোয়া রুটিন
লাইফস্টাইল ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২১ অক্টোবর): বয়স ৩৬ পেরোলেও মুখের দীপ্তি ও মসৃণতা ধরে রেখে ভক্তদের চমকে দেন দক্ষিণী তারকা তামান্না ভাটিয়া। ভারী মেকআপ কিংবা দামি রাসায়নিক প্রসাধনীর ভিড়ে না গিয়ে তিনি মূলত ঘরোয়া এবং প্রাকৃতিক উপাদানের ওপরই বেশি আস্থা রাখেন। ছোটবেলায় ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিলে তার মা তাকে ঘরোয়া উপায়ে যত্ন নেওয়ার এই অভ্যাস গড়ে তোলেন।
আজও প্রাত্যহিক রূপচর্চায় মায়ের বাতলে দেওয়া সেই সহজ কৌশলগুলোই মেনে চলেন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে চন্দন গুঁড়া, কফি, মধু, বেসন, টক দই এবং গোলাপজলের মতো সাধারণ উপাদান দিয়েই নিজের ত্বকের সতেজতা ধরে রাখেন তিনি।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপাদানের ব্যবহার
সকলের ত্বকের প্রকৃতি এক রকম হয় না—এ কথাটি মাথায় রেখেই রূপচর্চার সামগ্রী নির্বাচন করার পরামর্শ দেন তামান্না। কোনো উপাদান ব্যবহারের পর যদি ত্বক শুষ্ক বা টানটান মনে হয়, তবে তাতে মধুর পরিমাণ বাড়িয়ে নেওয়া উচিত। কারণ মধু প্রাকৃতিকভাবেই ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা রক্ষা করতে সাহায্য করে।
মধু, কফি ও চন্দনের স্ক্রাবিং
মুখের মৃত কোষ বা ডেড সেল দূর করতে চন্দন গুঁড়া, কফি পাউডার এবং মধু একসঙ্গে মিশিয়ে একটি স্ক্রাব তৈরি করেন তিনি। চোখের সংবেদনশীল অংশ বাঁচিয়ে পুরো মুখে আলতো হাতে মিশ্রণটি লাগিয়ে নেওয়া হয়। মিনিট দশেক রাখার পর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক দারুণ মসৃণ ও উজ্জ্বল হয় বলে জানান তামান্না।
তবে কফির ছোট দানাদার অংশ সংবেদনশীল ত্বকে হালকা জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি ঘটাতে পারে, তাই এ ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বেসন, দই ও গোলাপজলের শীতল প্যাক
ত্বকের ক্লান্তি দূর করে সতেজভাব ফিরিয়ে আনতে বেসন, ঠান্ডা টক দই এবং গোলাপজল মিশিয়ে একটি কার্যকরী ফেসপ্যাক বানান এই তারকা। ছোটবেলায় তার ত্বক খুব সহজেই সংবেদনশীল হয়ে পড়ত, আর সেই সমস্যা দূর করতে বেসন ও দই দারুণ কাজ করত। প্যাকটি মুখে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হয়। আর ব্যস্ততার দিনে স্ক্রাবের ঝামেলায় না গিয়ে শুধু খাঁটি গোলাপজল মেখেই ত্বক সতেজ রাখেন তিনি।
রূপচর্চায় নিয়ম ও সচেতনতা
বছরের পর বছর ধরে তামান্নার প্রসাধন রুটিনে কিছু পরিবর্তন আসলেও মূল মন্ত্রটি একই রয়েছে—অপ্রয়োজনীয় কেমিক্যাল এড়িয়ে ত্বকের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী যত্ন নেওয়া।
অবশ্য সেলিব্রিটিদের এই ঘরোয়া পদ্ধতি সবার ত্বকে হুবহু একরকম ফল দেবে না। প্রাকৃতিক উপাদানেও অনেকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতার সমস্যা হতে পারে। তাই নতুন কোনো উপাদান ত্বকে ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট বা সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বক হলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ। সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
মনোয়ারুল হক/
