নেতানিয়াহুর চোখে ফ্রান্স উগ্র ইসলামের অভয়ারণ্য!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২১ অক্টোবর): ফ্রান্সে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সপ্তাহান্তে চলা বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করার পর দেশটির তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। উস্কানিমূলক এক মন্তব্যে তিনি দাবি করেছেন যে, ফ্রান্স বর্তমানে ’উগ্র ইসলামের আগ্রাসনের’ শিকারে পরিণত হয়েছে।

নেতানিয়াহুর এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পশ্চিমা বিশ্বের চরমপন্থী ডানপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশ্লেষকদের কথার সাথেই মিলে যায়। সাধারণত অভিবাসন ব্যবস্থার কারণে যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল ইসলামিক আইনের ছায়াতলে চলে যাচ্ছে বলে যারা প্রায়ই অবাস্তব দাবি তুলে থাকেন। এ ধরনের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিতই ইসলামোফোবিয়ার জোরালো অভিযোগ ওঠে।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ডানপন্থী ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, প্যারিসসহ দেশের প্রধান নগরীগুলোতে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ও গণঅসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন ফরাসি কর্তাব্যক্তিরা। তার দাবি, বর্তমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে সক্রিয়ভাবে মদদ জোগাচ্ছে উগ্রপন্থী ইসলামপন্থীরা।

ফরাসি ভাষার গণমাধ্যমে প্রচারিত দোভাষীর অনুবাদ অনুযায়ী নেতানিয়াহু মন্তব্য করেন, ’তারা সময়মতো কোনো প্রস্তুতিই নেয়নি, বরং তারা স্রেফ আত্মসমর্পণ করেছে। উগ্র ইসলামের এই আগ্রাসনের সামনে তারা পুরোপুরি হার মেনেছে।’

ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের কী ধরনের পরামর্শ দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই নেতানিয়াহু বলেন, ’কোনো ধরনের তোষণ নীতি না চালিয়ে বরং প্রতিরোধ গড়ে তুলুন—এই উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে শক্তহাতে লড়াই করুন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের সাত তারিখে হামাসের হামলার পর তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ’আমরা যদি এখনই ওদের এখানে নিশ্চিহ্ন করতে ব্যর্থ হই, তবে অচিরেই ওদের দেখা মিলবে প্যারিসের রাস্তায়—আর ঠিক সেটাই এখন ঘটে চলেছে।’ যদিও নিজের এই দাবির সপক্ষে তিনি কোনো ধরনের প্রমাণ পেশ করেননি।

উল্লেখ্য, গত বছর যেসব ইউরোপীয় রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বাধীন দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল, ফ্রান্স ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম—যা তেল আবিবকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করেছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফরাসি জনবিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসন নীতি এবং প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি, ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও কঠোর করার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সূত্র: আরব নিউজ

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ