নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪

নাটোর প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (২০ অক্টোবর): নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে এখন ১৪ জনে পৌঁছেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ইতোমধ্যে নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে, যার মধ্যে বাসচালকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অভিমুখে ছেড়ে আসা আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং কুড়িগ্রাম থেকে পাবনাগামী একটি বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এই বিপর্যয় ঘটে।

যাঁদের পরিচয় এ পর্যন্ত নিশ্চিত করা গেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর সন্তান সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের পুত্র ও বাসচালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮)।

দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আলমগীর হোসেন এবং নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন উপপরিচালক আক্তার হামিদ খান জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন এবং হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

দুর্ঘটনার শিকার বাসটির এক যাত্রী আব্দুস সালাম জানান, বাসটি কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। তিনি মাদারীপুরের মোস্তাকপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাত নয়টার দিকে বাসে আরোহণ করেন এবং বাসের পেছনের দিকে তাঁর আসন ছিল।

আব্দুস সালামের ভাষ্যমতে, বাসটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। সব কটি আসন পূর্ণ থাকার পাশাপাশি বহু যাত্রী দাঁড়িয়েও ভ্রমণ করছিলেন। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে বাসের ভেতরে পা ফেলারও কোনো ফাঁকা জায়গা ছিল না। তাঁর অভিযোগ, বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চালানো হচ্ছিল এবং চালক প্রায়ই আকস্মিকভাবে সজোরে ব্রেক কষছিলেন, যার ফলে যাত্রীরা সিট থেকে ছিটকে পড়ছিলেন।

এদিকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার (এসপি) শরিফুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস।

জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, ‘এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ