তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৮ অক্টোবর): একটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির পথে যুবসমাজকেই সর্বাগ্রে চালিকাশক্তির ভূমিকা পালন করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বাবস্থায় সবার ওপরে স্থান দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের স্ব স্ব স্বার্থের কাঙ্ক্ষিত সুরক্ষা দেওয়া সম্ভবপর হয়, আর তবেই সবার উপযোগী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে ওঠে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আড়ম্বরপূর্ণ ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ও অনুদান বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, ‘আপনাদের সকলের মূল অভীষ্ট থাকা উচিত সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ। এমন একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের যুবশক্তিকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তরুণ প্রজন্মের অবদানের গভীর প্রশংসা করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের নানা প্রান্তে অসংখ্য তরুণ অবস্থান করছেন—যাঁদের কেউ শিক্ষার্থী আবার কেউবা নানা পেশার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিজ নিজ শিক্ষাজীবন কিংবা পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁরা মানবকল্যাণে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসছেন এবং মানুষের দুর্দিনে তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তরুণদের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও নিরলস অবদান দেশের সামগ্রিক কল্যাণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন, তাঁদের সব সময় এটি স্মরণে রাখতে হবে যে, একটি দেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুবসমাজের অবদান সবচেয়ে বেশি কার্যকর। অলিম্পিকের মতো বিশ্বমঞ্চের প্রতিযোগিতায় যারা সাফল্যের মুকুট পরেছেন, তাদের একটা বড় অংশই তরুণ। ঠিক তেমনিভাবে আমাদের ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনেও প্রবীণরা হয়তো তাঁদের মেধা, মনন, বুদ্ধি ও সুপরামর্শ জুগিয়েছেন, কিন্তু রাজপথে সরাসরি উপস্থিত থেকে আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছে তরুণসমাজই।’
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের যেকোনো সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন ও অগ্রগতির মূলে রয়েছে তরুণদের অপ্রতিরোধ্য শক্তি, সাহস, অমেধাবী মনন এবং যুগান্তকারী উদ্যোগ। সেই তারুণ্যের শক্তিকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের কাজে সফলভাবে লাগাতে হবে।
নির্বাচনকালীন প্রদত্ত নানা প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটের আগে আমরা যেসব অঙ্গীকার করেছিলাম, সেগুলো আজ কেবল আমাদের একতরফা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তা এখন আপামর দেশবাসীর অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে। এসব জনকল্যাণমুখী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
উদীয়মান তরুণ উদ্যোক্তা ও মেধাবী যুবসমাজকে এগিয়ে নিতে সরকারের বিভিন্ন রূপরেখা তুলে ধরে সরকারপ্রধান জানান, সরকার স্টার্টআপ ফান্ড পুরোপুরি বাস্তবায়নের জোরালো পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের প্রজ্ঞাবান ও প্রতিভাবান যুবকদের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে বর্তমানে নির্ধারিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের আকার প্রয়োজনের তাগিদে ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, তরুণদের সৃজনশীল মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং কাজের স্পৃহাকে সঠিক উপায়ে কাজে লাগানো গেলে দেশ তুলনামূলক দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। যুবসমাজকে শুধু নিজেদের ব্যক্তিগত উন্নতির কথা ভাবলেই চলবে না, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের নাড়ির টানে কল্যাণের কথাও সমানভাবে চিন্তা করতে হবে।
বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন খাতে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন উদীয়মান যুব স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধির হাতে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ এর ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেককে এক লাখ টাকা সমমূল্যের চেক, সম্মাননা স্মারক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সনদপত্র প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি, যুব সংগঠনগুলোর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি গতিশীল ও বেগবান করার উদ্দেশ্যে দেশের মোট ৪৩২টি যুব সংগঠনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এর আওতায় প্রতিটি নির্বাচিত সংগঠনকে নগদ দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে পুরস্কার অর্জনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত তিনজন তরুণ তাঁদের নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং তাঁদের বহুমুখী স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তব অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরেন।
এছাড়াও, দেশের তরুণ ও যুবসমাজের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও রূপরেখা তুলে ধরে প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। এ সময় প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের চৌষট্টিটি জেলার যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা অনলাইনে সরাসরি এই মহতী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিলগ্নে প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ সমাজকে অকৃত্রিম দেশপ্রেম, অকৃত্রিম মানবিকতা এবং নিঃস্বার্থ সেবার মানসিকতা ধারণ করে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই ব্রতকে বুকে ধারণ করেই সবাইকে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন।
মনোয়ারুল হক/
