বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লক্ষ্য হোক কর্মসংস্থান উপযোগী জনশক্তি তৈরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ অক্টোবর): রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল উদ্দেশ্য থাকা উচিত দেশের উপযোগী দক্ষ কর্মীবাহিনী তৈরি করা।

তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্দেশ্যে উচ্চশিক্ষার পুরো কাঠামোকে একটি সমন্বিত ও সামগ্রিক (Holistic Approach) পন্থায় বিন্যস্ত করা দরকার, যাতে তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয় এবং বেকারত্বের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়।

আজ শনিবার সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ তাগিদ দেন। উক্ত সাক্ষাতে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, করপোরেট অফিস ও বিশেষায়িত সংস্থাসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বিদেশ থেকে প্রফেশনাল কর্মী আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশের ভেতরেই রয়েছে বিপুলসংখ্যক উচ্চশিক্ষিত বেকারের ভিড়।

এ পরিস্থিতির উত্তরণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টেকনিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষায় আধুনিক ও বিশ্বমানের সিলেবাস চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় রাষ্ট্রপতি অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষাব্যয় মওকুফের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

সাক্ষাতের সময় বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

তিনি জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত একটি অলাভজনক ও দাতব্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩২ কোটি টাকার মতো অর্থ মেধাবী, অসচ্ছল এবং কোটাভুক্ত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ বা বৃত্তি আকারে প্রদান করা হয়।

আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে সবিনয় আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আনন্দের সঙ্গে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকার সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিবের পাশাপাশি সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সচিব, বিভিন্ন সদস্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপদেষ্টাগণ।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ