দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জনগণের জয় হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক (চাঁদপুর), এবিসিনিউজবিডি, (১৬ মে) : দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জনগণের জয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বহু জীবনের বিনিময়ে দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা এবং মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম। বাংলাদেশের জনগণ সেই আন্দোলনে সফল হয়েছে।’
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এখন জনগণের শাসন, কথা বলার অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে দেশকে গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করা। আমরা দেখেছি, বিগত ১৭ বছরে এ দেশের মানুষের লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং সম্পদ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিগত সরকারের সময়ে দেখেছি, দেশের প্রশাসনকে রাজনৈতিককরণ করে তাদের দক্ষতা নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। অন্য দেশের চিকিৎসাসেবার সুবিধার জন্য দেশের চিকিৎসাসেবা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের অর্থ লুট করা হয়েছে। গ্রামে উন্নয়ন হয়নি, আর শহরে গিয়ে দেখবেন কতগুলো ফ্লাইওভার হয়েছে; কিন্তু রাস্তাঘাট ভাঙা।’
তারেক রহমান বলেন,‘রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে যারা কাজ করবে, তাদের জন্য ৮০ হাজার টাকা দিয়ে বালিশ কেনা হয়েছিল। একটি বালিশের দাম কখনো ৮০ হাজার টাকা হতে পারে? জনগণের এই টাকাই বিদেশে পাচার করা হয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে এখানে একটি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। “যদি উন্নয়নই হয়ে থাকে, তাহলে গত এক যুগেও কেন টেকনিক্যাল কলেজ হলো না? এখানে টেকনিক্যাল কলেজ হলে এ এলাকার যুবকরা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে প্রশিক্ষণ পাবে। তারা প্রশিক্ষণ নিলে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যে বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছি, সেটি বিগত এক যুগেরও বেশি সময় কেন সংস্কার করা হয়নি? এটি খনন হলে এ এলাকার মানুষ ও কৃষকরা উপকৃত হবে। কারণ গ্রামের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ আমরা আরেকটি অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করব। কেন এটি করা হবে? আমরা যেমন তরুণ-যুবকদের প্রশিক্ষিত এবং মেয়েদের শিক্ষিত করতে উদ্যোগ নিয়েছি, পাশাপাশি মায়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধীরে ধীরে প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সার-বীজ ক্রয়ের জন্য কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
মনোয়ারুল হক/
