তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ, ১০ দফা যৌথ বিবৃতি প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৮ মে) : তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ ও সহায়তা চেয়ে বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে বাংলাদেশ। তিন দিনের সরকারি সফরে চীন গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীন ১০ দফা সমন্বিত যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নানা বিষয় গুরুত্ব পায়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চীন সফর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয় এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়।

দুই দেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতির ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক আস্থার সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। একই সঙ্গে ‘কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ পুনরায় ‘এক চীন’ নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়। বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সরকারই পুরো চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।

এছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, পানিসম্পদ ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুই দেশ সম্মত হয়। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করে।

বাংলাদেশ চীনের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ এবং ‘সমন্বিত ভবিষ্যৎ সমাজ’ গঠনের ধারণার প্রশংসা করে। পাশাপাশি জাতিসংঘ সনদের নীতি, বহুপাক্ষিকতা, শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানায়।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে চীন জানায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে তারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীন সরকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ