জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যে বড় প্রভাব পড়বে না: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২০ এপ্রিল) : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও এর প্রভাব দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে বড় আকারে পড়বে না বলে সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, তবে বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে সীমিত মাত্রায়। তিনি এটিকে ‘মডেস্ট’ বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করেন।’

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে মন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি সে ভাবে বৃদ্ধি পাবে না এটা বোঝা দরকার।’

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য যে হারে বেড়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই তুলনায় বৃদ্ধি অনেক কম।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ২.৭০-২.৮০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ ডলারের বেশি হয়েছে। অন্য দেশগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এই মূল্য সমন্বয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি।

তিনি আরও বলেন, ‘শিল্প উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে জ্বালানির অংশ সাধারণত ৭-৮ শতাংশ হওয়ায় এ বৃদ্ধির সামগ্রিক প্রভাব সীমিত থাকবে। পরিবহন খরচের ক্ষেত্রেও প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলতে প্রায় ২৫-৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৪৫০ টাকা। একই জ্বালানি দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হলে ইউনিটপ্রতি ব্যয় খুব বেশি বাড়ে না।’

মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে না এবং ভোজ্যতেলের দামও আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সক্রিয় রয়েছে এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ