মাকে ছাড়া পরিবারের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উদযাপন
বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২২ মার্চ) : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও পারিবারিক আবেগের এক অনন্য মিশেলে এবার রাজধানী ঢাকায় ঈদুল ফিতর উদযাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে এটি তাঁর প্রথম ঈদ—তবে এবারের উৎসব ছিল কিছুটা ব্যতিক্রমী, কারণ তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাঁর পাশে ছিলেন না।
রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদ উদযাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে একত্রে খাবার গ্রহণ এবং পারিবারিক আড্ডায় সময় কাটান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আয়োজন ছিল একান্তই পারিবারিক, যেখানে খালা-খালু, মামা-মামীসহ নিকটজনদের উপস্থিতি ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দেয়।
তবে আনন্দের মাঝেও ছিল এক ধরনের শূন্যতা—মায়ের অনুপস্থিতি। রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত বাস্তবতার কারণে এবারের ঈদে খালেদা জিয়া পরিবারের সঙ্গে ছিলেন না, যা প্রধানমন্ত্রীর জন্য আবেগঘন একটি দিক হয়ে ওঠে।
দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এরপর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এটি ছিল তাঁর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জনগণের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঈদের দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী যান রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে, যেখানে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর কবর জিয়ারত করেন। একই সঙ্গে শ্রদ্ধা জানান তাঁর মা খালেদা জিয়া-এর প্রতিও।
এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতি সম্মান জানাতে এই জিয়ারত ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় লন্ডনে কাটানোর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এবারের ঈদ সেই নতুন যাত্রারই একটি প্রতীকী মুহূর্ত—যেখানে রয়েছে পরিবার, দায়িত্ব, অতীতের স্মৃতি এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।
ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি ঐক্য, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বার্তা দেন। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, এবারের ঈদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর জীবনে ছিল আবেগ, দায়িত্ব এবং স্মৃতির এক অনন্য সমন্বয়। মায়ের অনুপস্থিতি যেমন অনুভূত হয়েছে, তেমনি পরিবারের উপস্থিতি ও জনগণের সঙ্গে সংযোগ তাঁর ঈদকে করেছে অর্থবহ ও স্মরণীয়।
মনোয়ারুল হক/
