অপরাধ দমনে কঠোর, মানবিকতায় অনন্য শ্রীপুর থানার ওসি শাহিন মিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক (শ্রীপুর), এবিসিনিউজবিডি, (২১ মার্চ) : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা—যেখানে একসময় মাদক, প্রতারণা আর গ্রাম্য সংঘাতে মানুষের নিত্যদিনের জীবন ছিল আতঙ্কে ঘেরা। সেই শ্রীপুর আজ ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের পেছনে যিনি নীরবে, নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হলেন শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহিন মিয়া।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি যেন ঘোষণা দিয়েছেন “অপরাধের সঙ্গে আপস নয়।” ২০২৫ সালের শুরুতে যোগদান করেই মাদক, সন্ত্রাস, বিকাশ প্রতারণা, ছিনতাই ও দাঙ্গার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এই সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা। তার নেতৃত্বে দিন-রাত অভিযান চালিয়ে একের পর এক অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে, কমেছে অপরাধের গ্রাফ।
শুধু কঠোরতা নয়—মানবিকতাতেও তিনি অনন্য। রিকশাচালক থেকে ব্যবসায়ী, দিনমজুর থেকে শিক্ষিত সমাজ—সবাই তার দরজায় সমানভাবে কড়া নাড়তে পারে। অভিযোগ আছে এমন নয়, বরং প্রশংসাই বেশি—তার কাছে গিয়ে উপকার পায়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
জনগণের ভাষায়, “এই ওসি আলাদা”—কারণ তিনি শুধু আইন প্রয়োগ করেন না, মানুষের কথা শোনেন, সমস্যার সমাধান করেন এবং সবচেয়ে বড় কথা—ঘুষমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান সময়ে যেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শোনা যায়, সেখানে শাহিন মিয়া হয়ে উঠেছেন ব্যতিক্রম এক দৃষ্টান্ত।
তার নেতৃত্বে ঝুলে থাকা বহু মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ হয়েছে, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে সময়মতো। ফলে এলাকায় ফিরেছে স্বস্তি, তৈরি হয়েছে পুলিশের প্রতি আস্থা।
সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি কার্যকর টিম। বিশেষ করে চৌকস পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে চালানো অভিযানে অপরাধীরা এখন অনেকটাই কোণঠাসা।
স্থানীয়দের দাবি—এমন সৎ, নিষ্ঠাবান ও সাহসী কর্মকর্তা খুব কমই দেখা যায়। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে তিনি জেলার সেরা ওসি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।
একান্ত সাক্ষাৎকারে ওসি শাহিন মিয়া বলেন,
“পুলিশকে মানুষ যেন ভয় না পায়, বরং বিশ্বাস করে। আমরা জনগণের সেবক। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি যতদিন দায়িত্বে আছি, সততার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যেতে চাই। সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
সব মিলিয়ে, শ্রীপুর থানায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওসি মোঃ শাহিন মিয়া—যেখানে কঠোরতা আছে, আবার মানবিকতাও আছে। এমন অফিসারই পারে পুলিশের প্রতি মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে।
মনোয়ারুল হক/
