নির্বাচন প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা জোরদারে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২২ জানুয়ারি) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন প্রস্তুতি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নির্বাচন আর মাত্র তিন সপ্তাহ দূরে থাকায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা—এই দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ ও মুখ্য সচিব, নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, কোস্ট গার্ডসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা বৈঠকে অংশ নেন।

প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে ৩০০ আসনেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তারও অবসান হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বুধবার প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং মধ্যরাত থেকেই পোস্টাল ব্যালট ছাপা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা পুরোদমে চলবে।

নির্বাচন পরিচালনায় এবার দায়িত্ব পালন করবেন ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের পাশাপাশি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ মোট ৫৯৮ জন কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন।

মনোনয়ন সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে শফিকুল আলম জানান, মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জন। এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে।

মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে করা ৬৪৫টি আপিলের মধ্যে ৪২৫টি মঞ্জুর, ২০৬টি নামঞ্জুর এবং ১৪টি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

দেশব্যাপী নির্বাচন অবকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩০০ আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র ও ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৯টি ভোটিং বুথ থাকবে। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি আসনে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি সক্রিয় থাকবে। ভোটের আগে, ভোটের দিন ও পরবর্তী সময়ে মোট আট দিনের জন্য ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৮ থেকে ১৯ জন করা হবে। প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রেস সচিব জানান, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ মনিটরিং ও জরুরি পরিস্থিতিতে এসওএস পাঠানোর সুবিধা থাকবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী দ্রুত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামবে।

নিরাপত্তা জোরদারে এক লাখের বেশি সেনাসদস্যের পাশাপাশি নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন যেন নিখুঁত ও গ্রহণযোগ্য হয়—এটি নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ