থাইল্যান্ডে ট্রেন লাইনে ক্রেন পড়ে ২২ জন নিহত, আহত ৩০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৪ জানুয়ারি) : থাইল্যান্ডে রেললাইনে এক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছে। একটি নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেল লাইনের ক্রেন ট্রেনের সামনে পড়ে গেলে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে শিখিওর বান থানন কোডের একটি রেলওয়ে সেকশনে। ট্রেনটি ব্যাংকক থেকে উবোন রাতচাথানি প্রদেশের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী ইউনিট পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি দ্রুতগতির রেল সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত একটি ক্রেন রেললাইনের উপর পড়ে যায়, যার ফলে রেললাইন আটকে যায়। একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ধসে পড়া ক্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে লাইনচ্যুত হয়, যার ফলে অতিরিক্ত নির্মাণসামগ্রী ট্রেনের উপর পড়ে। এই সংঘর্ষের ফলে ট্রেনটিতে আগুন ধরে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আটকেপড়া যাত্রীদের বের করার জন্য হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করে। তাদের শিখিও, সুং নোয়েন এবং মাহারাত নাখোন রাতচাসিমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, নাখন রাতচাসিমা প্রদেশের স্থানীয় পুলিশ প্রধান থ্যাচাপন চিননাওং জানান, ‘ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ায় ২২ জনের মৃত্যু এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।’
দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পরিবহনমন্ত্রী ফিফাত রাচাকিটপ্রাকর্ণ বলেছেন, তিনি এই ঘটনার একটি প্রতিবেদন পেয়েছেন এবং থাইল্যান্ডের রাজ্য রেলওয়েকে (এসআরটি) ক্রেন ধসের কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এসআরটি জানায়, ট্রেনটি ছিল একটি বিশেষ এক্সপ্রেস নং ২১, যার তিনটি বগি ছিল এবং আসন পরিকল্পনা অনুসারে মোট ১৯৫ জন যাত্রী এবং কর্মী ছিল।
এই রেল সেতু নির্মাণের লক্ষ্য হলো ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের থাই-চাইনিজ হাইস্পিড রেলওয়ে প্রকল্পের প্রথম অংশ (ব্যাংকক-নাখোন রাতচাসিমা)। প্রকল্পটি ২০১৭ সালে শুরু হয়। চীনের বিশাল ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ অবকাঠামো উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে ব্যাংকককে লাওসের মাধ্যমে চীনের কুনমিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা।
কর্তৃপক্ষ ক্রেন ধসের কারণ তদন্ত করছে। সূত্র: ব্যাংকক পোস্ট ও এএফপি
মনোয়ারুল হক/
