৫৪ বলে ৪৬ দরকার শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশের ৪ উইকেট

স্পোর্টস ডেস্ক, এবিসি নিউজ বিডি, ঢাকাঃ   বছরের শুরু থেকে জয়টা কেবলই মরীচিকা হয়ে আছে মুশফিকুর রহিমদের কাছে। ধরা দিতে দিতেও দিচ্ছে না। হতাশায় নিমজ্জিত মুশফিকুর রহিমের দল  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচটিতে জিততে মরিয়া ছিল এজন্য। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার শুরুটাও করেছিলেন দূর্দান্ত। কিন্তু ৭৪ রানে জুটিটা ভাঙ্গার পর পথ হারানো বাংলাদেশ করতে পারে মাত্র ২০৪ রান।

অল্প রানের পুঁজি নিয়েও অবশ্য লড়াই করে চলেছে বাংলাদেশ। ৮ রানে শ্রীলঙ্কার তিন উইকেট নিয়ে  শুরুতেই ধাক্কা দিয়েছে তারা। সেই চাপটা কাটিয়ে শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেটে ১৫৭ করায় ম্যাচটা হাতফস্কে যাচ্ছিল বাংলাদেশের। তবে ষষ্ঠ উইকেটে ম্যাথুজের সাথে ৮২ রানের জুটি গড়া চতুরঙ্গ ডি সিলভাকে ফিরিয়ে আশা জাগিয়েছে বাংলাদেশ। ৫২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৪৪ করা সিলভাকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মাহমুদু্ল্লাহ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪১ ওভারে ৬ উইকেটে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৫৯ রান। ম্যাথুজ ব্যাট করছেন ৪৯ রানে ও থিসারা পেরেরা ০ রানে। জয়ের জন্য শেষ

৫৪ বলে ৪৬ দরকার শ্রীলঙ্কার আর বাংলাদেশের ৪ উইকেট।

৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর থিরিমান্নে ও প্রিয়ঞ্জন চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৩৯ রানের জুটি। ২৪ করা প্রিয়ঞ্জনকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে জুটিটা ভাঙ্গেন জিয়া। অথচ এই জিয়াকে পাকিস্তানের সাথে বলই দেননি মুশফিক। সেই মুশফিকের মিসে  সাকিবের বলে ২২ রানে থাকা প্রিয়ঞ্জন জীবনও পেয়েছিলেন আজ। প্রিয়ঞ্জন ফেরার পর ওপেনার থিরুমান্নেও বেশিক্ষণ ছিলেন না আর। আরাফাত সানির বল তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনসে রুবেলের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ৬০ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩৩ রানের ইনিংস আসে তার উইলো থেকে।

 

এই মিরপুরে বাংলাদেশ আগের ম্যাচেই করেছিল নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩২৬। তবে আজকের পিচটা আগের মত ব্যাটিং উদ্যান নয়। তাই রান নিতে যথেষ্ট লড়াই করতে হয়েছে দুদলকেই। পিচটা স্পিন বান্ধব হলেও পেসার আল আমিন স্বপ্নের শুরুই এনে দেন বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে এনামুলের ক্যাচ বানিয়ে তিনি ফেরান কুশল সিলভাকে (০)। ভয়ংকর কুমার সাঙ্গাকারাকেও (২) নিজের পরের ওভারে নাসিরের অসাধারণ ক্যাচ বানিয়ে ফেরান আল আমিন। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়েই কিনা চাপে পড়েন অভিজ্ঞ মাহেলা জয়াবর্ধনের মত ব্যাটসম্যান। থিরিমান্নের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে কোন রান না করেই রান আউট হয়ে যান তিনি।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার শামসুর রহমান ও এনামুল হক ১৮ ওভারে গড়েছিলেন ৭৪ রানের জুটি। ইনজুরিতে পড়া ইমরুলের জায়গায় খেলতে নামা শামসুর রহমানকে (৫৭ বলে ৩৯) এলবিডব্লিউ করে জুটিটা ভাঙ্গেন মেন্ডিস। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আঘাত হানা মেন্ডিস সেই ওভারের শেষ বলে বোল্ড করেন মমিনুলকেও (১)। এরপর ডি সিলভা এলবিডব্লিউ করেন মুশফিককে (৪)। ভালো শুরু করেও আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এনামুল ৮৬ বলে ৪৯ করে পার্টটাইম স্পিনার প্রিয়ঞ্জনের বলে ক্যাচ দেন থিরিমান্নেকে।

৩২ বলে ২০ করা সাকিবকেও ফেরান প্রিয়ঞ্জন। ৭৪ রানে বিনা উইকেট থেকে ১১৯ রানে ৫ উইকেটে পরিণত হয় বাংলাদেশ। অর্থাৎ ৪৫ রানের ব্যবধানে টপঅর্ডারের পাঁচজন হারিয়ে বিপদে পড়ে মুশফিকের দল। নাসির ও মাহমুদুল্লাহ,দুজনই সমান ৩০ করলেও টেনে নিয়ে যেতে পারেননি স্কোরটা। তাই থামতে হয় ৯ উইকেটে ২০৪ রানে। জিয়াউর ১২,রাজ্জাকের জায়গায় খেলা সানি ২ আর শফিউলের বদলে সুযোগ পাওয়া রুবেল ফিরেন ০ রানে। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন লাকমল,মেন্ডিস,থিসারা ও প্রিয়ঞ্জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ