প্রথমবার রাষ্ট্রীয় গাড়ি ও জাতীয় পতাকা ব্যবহার করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৬ মার্চ) : বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-এর প্রভাতে একটি প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্যের সাক্ষী হলো দেশ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী সরকারি গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে তিনি জাতীয় পতাকাবাহী সরকারি গাড়িতে করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এর উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৫টা ৫৩ মিনিটে সেখানে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।

স্মৃতিসৌধে পৌঁছে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান।

এরপর তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমান-এর সমাধি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পুনরায় গুলশানের বাসভবনে ফিরে যান।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এতদিন ব্যক্তিগত সাদা গাড়ি ব্যবহার করছিলেন তারেক রহমান, যেখানে কোনো পতাকা ব্যবহার করা হয়নি। তবে স্বাধীনতা দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় পতাকাসহ সরকারি গাড়ি ব্যবহার করলেন।

বাংলাদেশ ফ্ল্যাগ রুলস, ১৯৭২ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার রাখেন। যদিও বিশেষ পরিস্থিতি বা নিরাপত্তাজনিত কারণে পতাকা ব্যবহার না করার সুযোগও রয়েছে।

এবারের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে ছিল ব্যতিক্রমী উদ্যোগও। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের পরিবহনে সীমিত প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের তথ্যানুযায়ী, সাধারণত এ ধরনের অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লিটার জ্বালানি ব্যয় হয়। সেই বিবেচনায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাসে করে স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হন।

স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রীয় পতাকা বহনকারী গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং জাতির ইতিহাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ