পদত্যাগ করলেন ঢাবি উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান
বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২১ ফেব্রুয়ারি) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন তিনি।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভিসি স্যার আজ সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তিনি অব্যাহতিপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। যদিও এরপরে মন্ত্রণালয় থেকে কিছু জানানো হয়নি, এখন বাকিটা সরকার সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার মূল পদ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপকের পদে ফেরার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা, শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে উপাচার্যের মতামত জানতে চান এবং এক্ষেত্রে তার সহযোগিতা কামনা করেন।
উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বৃহত্তর শিক্ষাখাতের উন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শিক্ষামন্ত্রী দেশের একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় উপাচার্যকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য তার পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্ট মাসে একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম। মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজকর্ম শুরু করা এবং এটিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আজকে প্রায় দেড় বছর পর আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা মোটামুটি একটি ভালো অবস্থানে আছি। আমরা অংশীজনদের ভালবাসা ও সহযোগিতায় সেই আপদকালীন কিংবা বিশেষ পরিস্থিতি, এই মুহূর্তে উত্তরণ করতে পেরেছি। সুতরাং আমি এখন মনে করছি, এটি একটি দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা ভালো পর্যায়ে আছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই।’
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩০তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ওই বছরের ১০ আগস্ট ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।
মনোয়ারুল হক/
