বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের পোশাকশিল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২১ ফেব্রুয়ারি) : বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আর একক অঞ্চল হিসেবে পোশাক রপ্তানি হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়ে থাকে।
পাল্টা শুল্ক আরোপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে। পোশাক খাতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী দেশ ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ভারত বর্তমানে ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে ১২ শতাংশ শুল্ক দেয়। এ চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে এ শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ লাভ করবে। ২০২৯ সালের পর বাংলাদেশ আর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না। ইইউ-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি না করলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। ফলে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে তার দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাবে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের পোশাক খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। উন্নত অবকাঠামোর অভাব, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার, আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শ্রমিকের অভাব রয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের বিষয় হলো ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। ফলে ভারতের রপ্তানি বাড়বে। বাংলাদেশের রপ্তানির বাজার ভারতের বাজারে কিছুটা হলেও যাবে। আবার ইইউ-ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ২০২৭ সালের মধ্যে ভিয়েতনামের শুল্কও শূন্যে নেমে আসবে। এই সম্মিলিত প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিতে পড়বে। এজন্য সরকারকে দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে আলোচনা করতে হবে অথবা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘ইউরোপ আমাদের সর্ববৃহৎ বাজার। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়। ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তাদের বর্তমান শুল্ক শূন্য হয়ে যাবে। এতে তাদের সক্ষমতা অনেক বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘ভারত কটনের ওপর যে সাপোর্ট দেয়, সেটা অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে ওরা এই জায়গায় এগিয়ে যাবে। ওদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন তাঁরা ৩০-৪০ বিলিয়ন পর্যন্ত টার্গেট করবেন। ইউরোপের বাজার প্রায় ২০০-২৫০ বিলিয়নের ওপরে। তাদের বাজার বাড়ানোর এই শেয়ারটা আমাদের সবার থেকে কমবেশি নেবে।’
মনোয়ারুল হক/
