ঐতিহাসিক বিজয়: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনে বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৩ ফেব্রুয়ারি) : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট। সর্বশেষ প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১১টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি জোট। এর ফলে দলটির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন প্রায় নিশ্চিত হয়েছে।
বিজয়ের ধারাবাহিকতায় দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তিনিই হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
আসনভিত্তিক চিত্র
নির্বাচনের সর্বশেষ বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে—
বিএনপি জোট: ২১১টি আসন
জামায়াত জোট: ৭৪টি আসন
স্বতন্ত্র ও অন্যান্য: ৯টি আসন
ফল ঘোষণা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিজয়ীরা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জয়ী হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জুনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে জয় পেয়েছেন।
এছাড়া বিএনপি ও তাদের মিত্রদের আরও বহু প্রার্থী দেশের বিভিন্ন আসনে জয় লাভ করেছেন।
খুলনা বিভাগে বিএনপি ও জামায়াত জোটের একাধিক প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও মেহেরপুর জেলার বেশিরভাগ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের জয় লক্ষ্য করা গেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলায় ৬টির মধ্যে ৫টি আসনে বিএনপি জয় পেয়েছে। একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
রংপুর ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদেরও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিরোধী জোটের সমন্বিত প্রচারণা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয়তা বড় ভূমিকা রেখেছে। ফলাফল অনুযায়ী সংসদে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন যারা:
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন। দলটির বিজয়ী অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন-মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১), সালাহউদ্দিন আহমদ (কক্সবাজার-১), আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১), ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ (ভোলা-১), কাজী রফিকুল ইসলাম (বগুড়া-১), মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (কুমিল্লা-৩), নুরুল ইসলাম নয়ন (ভোলা-৪), জি কে গওস (হবিগঞ্জ-৩), আহমেদ আজম খান (টাঙ্গাইল-৮), আজহারুল ইসলাম মান্নান (নারায়নগঞ্জ-৩), মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু (শরীয়তপুর-৩), মুরশেদ মিল্টন (বগুড়া-৭), আব্দুল বারী (জয়পুরহাট-২), আরিফুল হক চৌধুরী (সিলেট-৪), লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু (ময়মনসিংহ-৮), নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদির লুনা (সিলেট-২), আবু মুনসুর সাখাওয়াত হাসান (হবিগঞ্জ-২), এম এ হান্নান (ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া-১), ইলিয়াস মোল্লা (ফরিদপুর-১), শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর-২), নায়াব ইউসুফ আহমেদ (ফরিদপুর-৩), শহীদুল ইসলাম বাবুল (ফরিদপুর-৪), আনোয়ারুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম-১), সরওয়ার জামাল নিজাম (চট্টগ্রাম-১৩), খন্দকার মোশারফ হোসেন (কুমিল্লা-১), ইশরামুল বারী টিপু (নওগা-৪), মঈনুল ইসলাম খান (মানিকগঞ্জ-২)।
নরসিংদী-১ আসনে বিএনপির খায়রুল কবীর খোকন, নরসিংদী-২ আসনে জয়ী বিএনপির আবদুল মঈন খান, নরসিংদী-৩ আসনে আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, নরসিংদী-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল, গোপালগঞ্জ–১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান মোল্লা, গোপালগঞ্জ–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে এম বাবর, গোপালগঞ্জ–৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানী।
হবিগঞ্জ-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন রেজা কিবরিয়া। বগুড়া-২ আসনে মীর শাহে আলম, বগুড়া-৪ এ মোশারফ হোসেন, ফরহাদ হোসেন আজাদ (পঞ্চগড়-২), শফিকুর রহমান কিরন বিজয়ী হয়েছেন শরীয়তপুর-৩ আসনে।
কিশোরগঞ্জে ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে জয়লাভ করেছে বিএনপি। তারা হলেন- মাজহারুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-১), জালাল উদ্দীন (কিশোরগঞ্জ-২), ড. ওসমান ফারুক (কিশোরগঞ্জ-৩), অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান (কিশোরগঞ্জ-৪), শরীফুল আলম (কিশোরগঞ্জ-৬)। এই জেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল জয়ী হয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে।
অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জুনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
জামায়াত: দলটির প্রার্থীদের মধ্যে হলেন জহিরুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৬), সালাউদ্দীন আইউবী (গাজীপুর-৪), রায়হান সিরাজী (রংপুর-১), এটি এম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২), মাহবুবুর রহমান বেলাল (রংপুর-৩), গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), আনোয়ারুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম-১), মাহবুবুল আলম সালেহী (কুড়িগ্রাম-৩), মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তাক (কুড়িগ্রাম-৪), শফিকুল ইসলাম মাসুদ (পটুয়াখালি-২) বিজয়ী হয়েছেন।
এনসিপি: দলটির বিজয়ীরা হলেন আখতার হোসেন (রংপুর-৪), আতিক মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২), হান্নান মাসুদ (নোয়াখালি-৬।
খুলনা বিভাগে বিজয়ী যারা: খুলনা-২ আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনে বিএনপির এস কে আজিজুল বারী, খুলনা-৫ আসনে বিএনপির মোহাম্মাদ আলী আসগার, বাগেরহাট-১ আসনে জামায়েতের মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াতের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম। সাতক্ষীরা-১ আসনে জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহ (দাঁড়িপাল্লা), সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনে জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের জিএম নজরুল ইসলাম। যশোর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনে জামায়াতের মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ আসনে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর-৪ আসনে জামায়াতের গোলাম রসুল, যশোর-৫ আসনে জামায়াতের গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনে জামায়াতের মোক্তার আলী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর রুহুল আমীন, নড়াইল-১ আসনে বিএনপির জাহাঙ্গীর আলম, নড়াইল-২ আসনে জামায়াতের আতাউর রহমান বাচ্চু, ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির মো. আসাদুজ্জামান, ঝিনাইদহ-২ জামায়েতের জামায়াতে ইসলামীর আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবু তালেব, মাগুরা-১ আসনে বিএনপির মনোয়ার হোসেন খান, মাগুরা-২ আসনে বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী, কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির রেজা আহামেদ, কুষ্টিয়া-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনে জামায়াতের আফজাল হোসেন, মেহেরপুর-১ আসনে জামায়াতের মাওলানা তাজ উদ্দিন খান, মেহেরপুর-২ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের নাজমুল হুদা।
মনোয়ারুল হক/
