অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কর্মদিবস: প্রত্যাশা–সমালোচনার হিসাবনিকাশ

বিশেষ প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১০ ফেব্রুয়ারি) : আজ ছিল দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কর্মদিবস। সীমিত সময়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এই সরকারের কার্যক্রম ঘিরে শুরু থেকেই ছিল নানা প্রত্যাশা, সংশয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক। নির্দিষ্ট সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। শেষ দিনে এসে সেই দায়িত্বপালনের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা প্রদান ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে রদবদল, মাঠ প্রশাসনে নজরদারি বৃদ্ধি এবং নির্বাচনকালীন আচরণবিধি বাস্তবায়নে জোর দেয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে—তারা নিরপেক্ষ থেকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পালন করেছে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান ছিল তাদের দৃশ্যমান কার্যক্রমের অংশ।

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ছিল ভিন্নধর্মী। ক্ষমতাসীন দল সরকারের পদক্ষেপকে ‘সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অংশ’ হিসেবে দেখলেও, বিরোধী দলগুলোর একটি অংশ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে প্রশাসনিক বদলি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সময় ও ক্ষমতার মধ্যে থেকে সরকারকে কাজ করতে হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ তাদের ছিল না।

দায়িত্বকালীন সময়ে মূল্যস্ফীতি, বাজার পরিস্থিতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, তবুও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশ ও জনসাধারণের আস্থা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল—অন্তর্বর্তী সরকার একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করবে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ও নাগরিক আলোচনায় দেখা গেছে, কেউ কেউ সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ সমালোচনাও করছেন। তবে অধিকাংশের মতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ছিল সময়ের বড় অর্জন।

শেষ কর্মদিবসে বিভিন্ন দপ্তরে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সীমিত ছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি, প্রশাসনিক নথিপত্র হালনাগাদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাধ্যমে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। এখন নজর নতুন সরকারের নীতি, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের দিকে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের এই সময়কাল ছিল দায়িত্ব, বিতর্ক ও প্রত্যাশার সমন্বয়ে গঠিত একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইতিহাসে তাদের মূল্যায়ন নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা কতটা সুসংহত হয়েছে তার ওপর।

মনোয়ারুল হক/  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ