দাউদকান্দির সেতুটি যেন মরণফাঁদ
নিজস্ব প্রতিবেদক (কুমিল্লা), এবিসিনিউজবিডি, (৬ ডিসেম্বর) : কুমিল্লার দাউদকান্দির বারপাড়া ইউনিয়নের সুকিপুর গ্রামের সুন্দলপুর-ডাকখোলা সড়কের গঙ্গামুডুল খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুর দুই পাশে নেই কোনো রেলিং। বেশির ভাগ পিলারের পলেস্তারা উঠে গেছে। বেরিয়ে গেছে রড। এক পাশে ভেঙে যাওয়া বড় একটি অংশে কাঠের মাচাল বিছিয়ে জোড়াতালি দিয়ে পার হচ্ছেন চার গ্রামের হাজারও মানুষ ও ছোটখাটো যানবাহন। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় উপজেলা প্রকৌশলী বাস্তবায়নে ৬ ফুট চওড়া ৩৫ ফুট লম্বা ৪ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য সুকিপুর গ্রামের সুন্দলপুর-ডাকখোলা সড়কের গঙ্গামুডুল খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
নির্মাণের ২০ বছর পর থেকে সেতুটিতে ছোটখাটো ফাটল দেখা যায়। পরে স্থানীয়ভাবে সেতুটি মেরামত করে কোনো রকমে চলাচল করছিলেন যানবাহন ও স্থানীয়রা। কিন্তু বর্ষায় পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৃষ্টির পানির স্রোতে মাটি সরে গিয়ে সেতুটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। এলাকাবাসীর দাবির পরও দীর্ঘ ১০-১২ বছরেও সংস্কার হয়নি সেতুটি।
নূরে আলম মেম্বার বলেন, ‘সুকিপুর গ্রামের সুন্দলপুর-ডাকখোলা সড়কের গঙ্গামুডুল খালের ওপর সেতুটি ৩৩ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ হিসেবে মাঝেমধ্যে কর্মকর্তারা এসে মাটি পরীক্ষা করে গেলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মনে আতঙ্ক-ভয় আর ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ হাজারও মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছেন। সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’
বারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিউল বলেন, ‘সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ভয়ে থাকতে হয়, কখন যেন এটি ভেঙে পড়ে। এমন আশঙ্কা নিয়ে ওই সেতুর ওপর দিয়ে স্থানীয় মাদ্রাসা স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ উপজেলা সদরে নিয়মিত চলাচল করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারও মানুষ।
খুব তাড়াতাড়ি সেতু নির্মাণ না করা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না।’ ডাকখোলা গ্রামের রহিম মিয়া বলেন, ‘৫ থেকে ৬ বছর আগে একটি মাটি বহনকারী ট্রাক্টর ট্রলির যাতায়াতের কারণে সেতুটির বেশ কিছু অংশ ধসে পড়ে। এতে সেতু ও রাস্তাটি সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী সেতুর ভাঙা অংশে মাটি ভরাট করে চলাচল স্বাভাবিক করে। কিন্তু বর্ষায় প্রবল বর্ষণে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে আবার সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেতুটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ না করলে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা চাই, এই আশপাশের ৫-৬ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন সেতুটি পূর্ণ নির্মাণ করা হোক।’
উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই সড়কের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সেতু নির্মাণের চাহিদাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেতুটি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি এই সেতুটির কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।’
মনোয়ারুল হক/
