ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান খাসোগির বাগ্দত্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি,
ঢাকা (২৭ অক্টোবর ২০১৮) : সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় তাঁর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছেন খাসোগির বাগ্দত্তা হাতিজে জেংগিস। তুর্কি টেলিভিশনে চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। সাক্ষাৎকারে হাতিজে জানান, জোরালো যোগাযোগের কারণে তুরস্ককে নিজের জন্য নিরাপদ ভাবতেন খাসোগি। হত্যার চার দিন আগে প্রথমবারের মতো সৌদি কনস্যুলেট ভবনে গিয়েছিলেন খাসোগি। সে সময় তাঁকে সমাদর করা হয়।

২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনের ভেতর ব্যক্তিগত কাগজপত্র আনার জন্য খাসোগি যখন ঢোকেন, তখন বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন হাতিজে জেংগিস। তাঁকে বিয়ে করার জন্য আগের স্ত্রীর সঙ্গে তালাকসংক্রান্ত নথি আনতে সেখানে গিয়েছিলেন খাসোগি। তবে কনস্যুলেট ভবন থেকে তিনি আর বেরিয়ে আসতে পারেননি। তুরস্কের দাবির ১৭ দিন পর সৌদি আরবের স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়েছে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিনি।

ঘটনার শুরুতে খাসোগির ব্যাপারে সৌদি আরবের অস্বীকৃতি ও এতে তাল মিলিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নানা মন্তব্যের কারণে তাঁর ওপর আস্থা নেই হাতিজের। গতকাল শুক্রবার হাবেরতুর্ক টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর সেই প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, কিন্তু আমি অনুভব করেছি, (ট্রাম্পের) বক্তব্যটি ছিল জনগণের মন জয়ের জন্য।’

খাসোগিকে ছাড়া জীবনকে হাতিজে অন্ধকারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘নিজেকে আমি অন্ধকারের মধ্য দেখতে পাই, এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

সাক্ষাৎকারের সময় বারবারই আবেগে থেমে যাচ্ছিলেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন হাতিজে।

বিবিসি অনলাইন, কানাডার সিবিসি নিউজ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্য মর্নিং বুলেটিনের খবরে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকারের সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাতিজে খাসোগি নিখোঁজের সেই দিনের কথা বলেন। তিনি বলেন, সেদিন যদি তিনি টের পেতেন খাসোগিকে হত্যায় ‘সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ এমন ষড়যন্ত্র করেছে’, তাহলে কিছুতেই তিনি তাঁকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে ঢুকতে দিতেন না। তিনি বলেন, ‘নিচু থেকে শীর্ষ পর্যন্ত যারাই এই নিষ্ঠুরতার সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।’

সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। কিন্তু খাসোগির মরদেহ পাওয়া গেলে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি সৌদি আরব যেতে চান না বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, খাসোগি তুরস্ককে নিরাপদ মনে করতেন। তাঁর ধারণা ছিল, তুরস্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না বা কোনো সমস্যায় ফেলতে পারবে না। এরপরও কনস্যুলেট ভবনে যাওয়ার সময় তিনি চিন্তিত ছিলেন। হাতিজে জেংগিস আরও বলেন, ‘তুরস্কে খাসোগির স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ খুব ভালো ছিল। পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগও ভালো ছিল। তিনি তুরস্ককে নিরাপদ দেশ মনে করতেন এবং ভাবতেন, যদি তাঁকে এখানে ধরা হয় বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তাহলে তা খুব দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।’

হাতিজে জানান, ওই দিন কনস্যুলেট ভবনে ঢোকার সময় খাসোগি তাঁর কাছে দুটো মোবাইল ফোন রেখে যান। তিনি বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেট ভবনে প্রথম যেদিন খাসোগি গিয়েছিলেন, সেদিন তাঁর সঙ্গে খুবই ভালো আচরণ করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ