ছাত্র রাজনীতিতে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে: রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক, এবিসি নিউজ বিডি, ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ছাত্র রাজনীতির বর্তমান হালচাল দেখে মনে হয়, এখানে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থের প্রাধান্য বেশি। তিনি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ‘ডাকসু নির্বাচন ইজ মাস্ট’।

আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই সমাবর্তন হয়। সমাবর্তনে ১৭ হাজার ৮৭৫ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৮০ জনকে স্বর্ণপদক, ৬১ জনকে পিএইচডি ও ৪৩ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়।

উচার্য আবদুল হামিদ বলেন, গণতন্ত্রের ভিতকে মজবুত করতে হলে দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। আর সেই নেতৃত্ব তৈরি হবে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই। তিনি বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে অছাত্ররাই ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব দেয়, নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে ছাত্র রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা, সমর্থন ও সম্মান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। এটি দেশ ও জাতির জন্য শুভ নয়। তাই এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে ছাত্র রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘আমার নিজেরও ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। কিন্তু সেই সময়ের রাজনীতি আর আজকের ছাত্র রাজনীতির তফাৎ অনেক। ষাটের দশকে আমরা যারা ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলাম তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল দেশ ও জাতির কল্যাণ। দেশের মানুষকে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত করতে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থের কোনো স্থান ছিল না। সাধারণ মানুষ ছাত্রদের সম্মানের চোখে দেখত।’

এবারের সমাবর্তন বক্তা ছিলেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিওর উপাচার্য অধ্যাপক অমিত চাকমা। সমাবর্তনে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি দেওয়া হয়। তিনি একজন রাসায়নিক প্রকৌশলী হিসেবে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করেছেন। সমাবর্তন বক্তা করায় অমিত চাকমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। আমার কর্মজীবনে সফলতার কারণ, আমি মেধাবী না হলেও মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করেছি।’

সমাবর্তনকে শেখার জগতের সমাপ্তি নয়, বরং একটি মাইলফলক বলে মনে করেন অমিত চাকমা। তিনি বলেন, এই ডিগ্রি ও মেধাকে যেভাবে কাজে লাগাবেন, আপনার জীবন সেভাবেই চলবে। যে যত জ্ঞান অর্জন করবেন, তাঁর ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা তত বেশি থাকবে। নীতির ওপর তত বেশি অটল থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সমাবর্তন পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু সার্টিফিকেট অর্জন বা পরীক্ষায় ভালো ফল করে দেশের কল্যাণ সাধন করা সম্ভব নয়। এ জন্য ভালো মানুষ হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানই তোমাদের জীবনসংগ্রামের মূলমন্ত্র ও সম্বল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ