পাকিস্তানের নিন্দার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা

প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি,

ঢাকা: পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রচারিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নিন্দার কথা বলা হয়।
১২ মে (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মিজানুর রহমান প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করেন।

এতে বলা হয়, বিচার নিশ্চিত এবং ৪৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া অপরাধের সংস্কৃতি থেকে জাতিকে কলংকমুক্ত করার জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টার অবিরাম বিরোধিতা করছে পাকিস্তান।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, পাকিস্তান হাইকমিশনারের কাছে পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান নিজামী ১৯৭১ সালে ছাত্রসংঘের একজন নেতা এবং আল-বদল বাহিনীর প্রধান ছিলেন। শুধু তাই নয়, আল-বদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সে সময় তিনি দখলদার পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি নিজামী প্রবীণ প্রগতিশীল বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকান্ডেও জড়িত ছিলেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের আগে সংঘটিত কথিত অপরাধের জন্য বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করায় ইসলামাবাদ অত্যন্ত মর্মাহত।
এতে বলা হয়েছে, তার একমাত্র অপরাধ হচ্ছে পাকিস্তানের সংবিধান ও আইন সমুন্নত রাখা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা, নয়াদিল্লী ও ইসলামাবাদের মধ্যে ১৯৭৪ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী ক্ষমার পদক্ষেপ হিসেবে বিচার প্রক্রিয়া না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল এবং তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত চুক্তি অনুযায়ী অঙ্গীকার সমুন্নত রাখা।

চুক্তির বিষয়ে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, পাকিস্তানকে তাদের সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল চুক্তির এই শর্ত অনুযায়ী যে, তারা দেশে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে তাদের বিচার করা হবে।
প্রতিবাদলিপিতে আরো বলা হয়, চুক্তির কোথাও বলা হয়নি যে, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানী সৈন্যদের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধকারী নাগরিকদের বিচার করা যাবে না।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ বরং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার না করায় চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত এবং ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ করার জন্য তাদের বিচার দাবি করছে বলে উল্লেখ করেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ