রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ভূমিকা রাখবেন বিএনপির ৪৫ এমপি
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৩০ মার্চ) : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের ওপর ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার জন্য ৪৫ জন দলীয় সংসদ সদস্যের তালিকা প্রস্তুত করেছে সরকারি দল বিএনপি। তারা সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বিরোধী দলের নেতিবাচক বক্তব্যের পাল্টা যুক্তিতর্ক তুলে ধরবেন। ইতোমধ্যে ওই ৪৫ জনকে নিয়ে নয়াপল্টন কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে থাকা এই ৪৫ জন এমপি সংসদে প্রতিশ্রুতিশীল এবং গুছিয়ে কথা বলতে পারবেন বলে মনে করছে বিএনপির হাইকমান্ড। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে গত শনিবার রাতে নয়াপল্টন কার্যালয়ে বৈঠক করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা, গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাণবন্ত করতে নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা পাওয়ার পর জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এসব সংসদ সদস্য।
৪৫ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, এস এম জাহাঙ্গীর, নুরুল ইসলাম নয়ন, শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।
জানা গেছে, মো. সাহাবুদ্দিনকে সহসাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করছে না বিএনপি সরকার। জুলাই সনদ, অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা, আওয়ামী লীগের বিচার এবং বিগত দেড় বছরে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণেই তাকে স্বপদে রেখে দেওয়ার পক্ষে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এরই অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য ৪৫ জন এমপিকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি পূর্ণ মেয়াদ থাকবেন কি না অথবা কতদিন পর্যন্ত থাকবেন, তা এখনই বলা কঠিন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার মেয়াদ আছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল–তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের কাছে চলমান সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানাতে চান। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাকদ নাছির উদ্দিন নাছিরের সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন। পরে ছাত্রদলের শীর্ষ আরও পাঁচ নেতা ওই বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া পৃথকভাবে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করে সাংগঠনিক বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এ সময় তিন সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দেন তারেক রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, আগামীতে সংগঠনগুলোকে আরও শৃঙ্খলিত ও ঐক্যবদ্ধ করার রূপরেখা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের লক্ষ্যে ছাত্রদলকে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এ ব্যাপারে শিগগিরই অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আবারও বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান বিএনপিসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নিয়মিত তথ্য রাখছেন। তারই ধারাবাহিকতায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে কথা বলেছেন। এর মধ্য দিয়ে আগামীতে সংগঠনগুলো আরও বেশি সংগঠিত হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো নিয়েও দলের ভেতর কাজ চলছে। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে নতুনত্ব আনা হবে। এতে তরুণ নেতৃত্বে রাজনীতি বিকশিত হবে।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা বলেন, অনির্ধারিতভাবেই সাংগঠনিক ইস্যুতে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন ইউনিট ও জেলা কমিটির প্রসঙ্গে খোঁজখবর নেন। বৈঠকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৭ বছর বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে। এই সময়ে যোগ্য নেতৃত্ব-সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে যথাসময়ে কমিটি গঠন করা যায়নি। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত পর্যায়ে যায়নি। বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ। বিগত সময়ের তুলনায় এখনকার রাজনৈতিক পরিবেশ উন্মুক্ত। এ জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোকে পুনর্গঠন করতে হবে। নতুন কমিটিতে যোগ্য ও তরুণ নেতাদের নিয়ে সংগঠনকে গতিশীল করতে হবে। বিএনপিসহ সব কয়টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে নতুনত্ব নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে বিকশিত করতে হবে।
ছাত্রদলের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক সূত্র জানায়, তারেক রহমান ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী এবং আধুনিক করার লক্ষ্যে নতুন কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যার মূল উদ্দেশ্য হলো সংগঠনটির সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করা এবং নিয়মিত নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে ‘যোগ্য নেতৃত্ব’ তৈরি করা। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ নেতাদের তুলে এনে ছাত্রদলকে ভবিষ্যতের একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চেয়েছেন।
ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই শিগগির কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, তিনটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কিছু সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মনোয়ারুল হক/
