বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন, অস্ট্রেলিয়াকে হারাল জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৩ ফেব্রুয়ারি) : প্রথম অঘটনের সাক্ষী হলো চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোয় ২৩ রান ব্যবধানে হেরেছে অজিরা। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ১৬৯ রান করে জিম্বাবুয়ে। লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া ১৯.৩ ওভারে অলআউট হয় ১৪৬ রানে।

পাওয়ারপ্লেতেই অন্ধকার নেমে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া শিবিরে। ৪.৩ ওভারে মাত্র ২৯ রান করতেই হারায় টপ-অর্ডারের চার ব্যাটারকে। প্রথম ধাক্কাটা দেন ব্লেসিং মুজারাবানি, আউট করেন জশ ইংলিশকে (৮)। রানের খাতা খুলতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন এবং টিম ডেভিড। গ্রিন ব্র্যাড ইভান্সের শিকার হন এবং ডেভিমকে সাজঘরে ফেরান মুজারাবানি।

অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ট্রাভিস হেডের (১৭) গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নেন ইভান্স। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে অজি শিবিরে প্রাণ ফেরান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং ম্যাট রেনশ। ১২ ও ১৩ তম ওভারে দুইবার বেঁচে যান ম্যাক্সেওয়েল। একেবারে সীমানার ধারে তার তুলে দেওয়া ক্যাচ নিতে পারেননি ডিওন মায়ার্স এবং টনি মুনিয়েঙ্গো।

অবশেষে ১৫তম ওভারে ম্যাক্সওয়েলকে মাঠছাড়া করতে সক্ষম হন রায়ান বার্ল। তার বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন অজি অলরাউন্ডার। ৩২ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় তিনি করেন ৩১ রান। পরের ওভারে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রেনশ। ৩৫ বলে ৫০ রান করেন তিনি। ওয়েলিংটন মাসাকাদজার সেই ওভারে ছক্কা মারতে গিয়ে অক্কা পান মার্কাস স্টয়নিস (৬)।

শেষ ২৪ বলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৮ রান। ১৭তম ওভারে সিকান্দার রাজা দেন ৭ রান। পরের ওভারে বেন ডুরাশুইসকে (৬) ক্যাচ বানান ইভান্স। দুর্দান্ত ডাইভে ক্যাচ নেন বেন্নেট। ইভান্সও তার ৬ বলে দেন ৭ রান। এতে করে শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য ৩৪ রান প্রয়োজন পড়ে অস্ট্রেলিয়ার।

রেনশ ছিলেন বলেই কিছুটা আশা ছিল অজিদের। সেই আশার প্রদীপ নিভিয়ে দেন মুজারাবানি। ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে রেনশকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। ৪৪ বলে ৬৫ রান করে থামেন রেনশ। ওভারের শেষ বলে অ্যাডাম জাম্পাকে (২) শিকার বানান। ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন তিনি। এটাই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার।

মুজারাবানি জাদুর পর শেষ ওভারে জয়ের জন্য অজিদের প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। হাতে ১ উইকেট নিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার সৌভাগ্য হয়নি তাদের। ইভান্স বোলিংয়ে এসে রান আউট করে দেন কুনহেম্যানকে (০)। সঙ্গে সঙ্গে অবিশ্বাস্য এক জয়ের আনন্দে মাতে জিম্বাবুয়ে।

বোলিংয়ের মতোই ব্যাটিংয়ে নিখুঁত ছিলেন জিম্বাবুইয়ানরা, বিশেষ করে ব্রায়ান বেন্নেট। ওপেনে নেমে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছেন তিনি। যদিও তার ৫৬ বলের ইনিংসে ছিল না কোনো ছক্কা, তবে ৭ চারে খেলেন ৬৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। একই দায়িত্ব পালন করেন আরও তিন ব্যাটার- মারুমানি, রায়ান বার্ল এবং অধিনায়ক সিকান্দার রাজা।

মারুমানিকে সঙ্গে নিয়ে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে দলের খাতায় ৪৭ রান যোগ করেন বেন্নেট। ৭.৩ ওভারে ভাঙে জিম্বাবুয়ের উদ্বোধনী জুটি। ২১ বলে ৩৫ রান করে মার্কাস স্টয়নিসের শিকার হন মারুমানি। এরপর বার্লকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন বেন্নেট। ১৬তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৩১ এবং ব্যক্তিগত ৩৫ রানে থামেন বার্ল। তাকে থামান ক্যামেরন গ্রিন।

শেষ চার ওভার আর কোনো উইকেট হারায়নি জিম্বাবুয়ে এবং দলের খাতায় যোগ করেন আরও ৩৮ রান। অধিনায়ক রাজা ১৩ বলে ২ চার এবং ১ ছক্কায় ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাদের এই প্রচেষ্টার পর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সাফল্য পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। টুর্নামেন্টে এটা তাদের দ্বিতীয় জয় এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রথম হার।

মনোয়ারুল হক/  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ