শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে ভারত কোনো সাড়া দেয়নি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক (রংপুর), এবিসিনিউজবিডি, (৫ ডিসেম্বর) : শেখ হাসিনাকে দেশে আনার ব্যাপারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা তাকে চেয়েছি যেহেতু তিনি কনভিক্টেড, সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা তাকে একটি শাস্তি দিয়েছে কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে এখনও তেমন কোনো সাড়া পাইনি। আমরা অপেক্ষা করবো দেখি ভারতের পক্ষ থেকে কি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। একটা প্রতিক্রিয়া আমরা দেখেছি সেটার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’
শুক্রবার (০৫ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর অঞ্চলে চার দিনের সরকারি সফরে এসে সার্কিট হাউসে গণমাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমানের দেশে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারেক সাহেব কখন আসবেন সে সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। উনার স্ত্রী সম্ভবত আসছেন বা পৌঁছে গেছেন। বেগম জিয়াকে আজকে নেওয়া হচ্ছে না। এয়ারক্রাফ্ট নিয়ে একটু টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমার আসার উদ্দেশ্যের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা চেষ্টা করেছি বিশেষ করে উত্তরবঙ্গকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়। চাইনিজ সহায়তায় ১ হাজার বেডের হসপিটাল হবে নীলফামারী জেলায়। এমনভাবে প্লান করা হয়েছে যে শুধু নীলফামারী না-এমনও চিন্তা করা হচ্ছে যে ক্ষেত্রবিশেষে আশপাশের দেশগুলোও বিশেষ করে ভারত ভুটান থেকেও যেন মানুষ চিকিৎসা নিতে আসতে পারে।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আর একটা জিনিস চেষ্টা করা হচ্ছে বিশেষ করে ব্যাবসা-বাণিজ্য বাড়ানো বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্ষেত্রে যদি কিছু করা যায়। বিপুলসংখ্যক যুবক মানুষ যাদের কোনো চাকরি বাকরি নেই। এটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চেষ্টা চলছে। আমাদের সময় বেশি নেই। আমরা চেষ্টা করছি খুব সঠিকভাবে নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিতদের হাতে দেশের ভার দিয়ে দায়িত্ব থেকে অবসর নিতে।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে আশা করছিলেন যে আমরা সব রিফর্ম করে দিয়ে যাব, সেটা আসলে সম্ভব নয়। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব বাকিটা নির্বাচিতরা জনগণের কাছে আসবে, ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে। যারা ক্ষমতায় আসবেন আশা করি তারা সরে যাবেন না, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
আরাকান আর্মি বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্ভব নয় কারণ তারা নন স্টেট। মায়ানমারের সঙ্গে যেমন আলোচনা করতে পারি তাদের সঙ্গে তেমন করতে পারি না। যেহেতু আমাদের স্বার্থ আছে সেহেতু আমাদেরকে বিষয়টি দেখতে হবে। এই ঘটনা যাতে কমে বা না ঘটে-এর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
এরপর উপদেষ্টা স্বপরিবারে রংপুর জমিদারবাড়ি তাজহাটে পরিদর্শনে যান। এছাড়াও বিকেলে রংপুর সার্কিট হাউসে চা-পানের কথা রয়েছে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের। আগামীকাল রংপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জিলা স্কুল পরিদর্শন করার কথাও রয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
