তারপরও আফিফের পছন্দ ব্যাটিং !

স্পোর্টস ডেস্ক, এবিসি নিউজ বিডি, ঢাকা: জীবনে এই প্রথমবারের মতো কালই এত বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা হলো আফিফ হোসেনের। ১৭ বছর বয়সী এই অফ স্পিনারকে কিনা ছেড়ে দেওয়া হলো টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলের সামনে!

গেইল অনভিজ্ঞ আফিফকে পিটিয়ে ছাতু করবেন—এমন শঙ্কা ছিলই। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের রাজা গেইলকে বোল্ড করে দিলেন আফিফ।

মুহূর্তেই আফিফের ঠিকুজি বের করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সবাই। কিন্তু গুগল কিংবা ক্রিকেটের সাইটগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে বেশি তথ্য দিতে পারল না। দেবে কী করে? প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, লিস্ট ‘এ‌’, টি-টোয়েন্টি কিছুই যে খেলা হয়নি তাঁর। আফিফ চিটাগং ভাইকিংসের একেকটা উইকেট তুলে নেন আর হয়ে ওঠেন আগ্রহের বিষয়বস্তু।

হবেন না-ই বা কেন? ৪ ওভার বল করে ২১ রানে তিনি তুলে নিলেন ৫ উইকেট—বিপিএল অভিষেকে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। আফিফ নিজে কি এত কিছু ভেবেছিলেন! ভেবেছিলেন বড় মঞ্চে তাঁর অভিষেকটা এমন স্বপ্নের মতো হবে!

আহামরি কিছু করে ফেলার কথা ভাবেননি ঠিকই, তবে আফিফের একটা পরিকল্পনা কিন্তু ঠিকই ছিল। একধরনের প্রস্তুতি নিয়েই তিনি কাল খেলতে নেমেছিলেন বিপিএলের অভিষেকে। আফিফ নিজেই বলেছেন পূর্বপরিকল্পনাই তাঁকে উইকেট পেতে সহায়তা করেছে, ‘যা–ই করি, পরিকল্পনা ছিল, ঠিক জায়গায় বোলিং করব। এভাবেই উইকেট পেয়েছি।’

প্রথম দুই বলেই অবশ্য তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল আফিফের। জহুরুল ইসলাম দুবারই তাঁকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েছিলেন। পরের বলেই জহুরুল এলবিডব্লিউ হয়েছেন। যদিও রিপ্লেতে দেখা গেছে আফিফের বলটা চিটাগং ব্যাটসম্যানের ব্যাটে ছুঁয়ে প্যাডে লেগেছিল।

দুটি চার খেয়ে বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন আফিফ। কিন্তু অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি আর মেহেদী হাসান মিরাজের কথায় বিশ্বাস ফিরে পান তিনি। কী বলেছিলেন তাঁকে স্যামি, মিরাজ?

আফিফকে তাঁর পরিকল্পনায় ‘স্থির’ থাকার কথাই বলেছিলেন তাঁরা, ‘প্রথম দুটি চার খাওয়ার পরও ড্যারেন স্যামি বলছিলেন, যা–ই হোক, নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করবে। ম্যাচের আগে মিরাজ ভাই বলছিলেন, কোনো কিছু দেখবি না, শুধু জায়গায় বোলিং করবি। প্রথম দুটি চার খাওয়ার পর একটু নার্ভাসও হয়েছিলাম।’

 

আফিফ খানিকটা স্নায়ুচাপে ভুগেছেন গেইলকে বোলিং করার সময়ও, ‘গেইলের সামনে বোলিং করছি, একটু নার্ভাস লাগছিল। তবে উইকেট পাওয়ার পর ভালো লেগেছে।’

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সহ-অধিনায়ক আফিফ অফ স্পিন বল করলেও তিনি মূলত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। কদিন আগে নিজেদের মধ্যে হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেছেন ১৫০ রানের এক ইনিংস। বোলিংয়ে আকস্মিকভাবে ভালো করলেও তাঁর লক্ষ্য ব্যাটিংয়ে দারুণ কিছু করা, ‘প্রত্যাশা বোলিংয়ে থাকবে না। আমি মূলত ব্যাটসম্যান। আগে ব্যাটিং, তারপর বোলিং।’

সংবাদ সম্মেলনে পাশে বসা জেমস ফ্রাঙ্কলিন তো আফিফের কথা শুনে অবাক! এমন দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে ব্যাটিং !

বোলিং-ব্যাটিং দুটিই সমান হোক না আফিফ !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ