“পাঞ্জেরী : নীরবতার শেষে ভোর”

বিনোদন ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৬ জানুয়ারি) :

এই অসহায়ত্বের শেষ কথায় দাঁড়িয়ে

আমি পাঞ্জেরীর দিকে তাকাই—

তিতাস ফিরছে,

তুমি বলেছিলে সুদিন ফিরবে—

এই কথাটা আমি বুকের ভেতর রেখে

প্রতিদিন বেঁচে ছিলাম।

কিন্তু এমন কষ্ট,

এমন ভয়ংকর হাহাকার

পুরো মানচিত্রে দাগ কেটে দেয় পাঞ্জেরী,

যেন দেশ নয়—

একটা দীর্ঘশ্বাসের শরীর।

রাস্তাগুলো কাঁদে,

নদীগুলো চুপচাপ,

ঘরগুলো নিঃশ্বাস নেয় ভয় নিয়ে—

পাঞ্জেরী,

এই দুঃখ কার, বলো তো?

কে এভাবে মানুষের বুকের ওপর

ইতিহাস চাপিয়ে দেয়?

পাঞ্জেরী,

এইবার চোখের জল ফুরালো।

আর কাঁদার জায়গা নেই—

শুধু জমে থাকা নীরবতা।

আমি এক্কান বড় বাক্স কিনে রাখবো,

সেখানে রাখবো

সব না-পাওয়ার হিসাব,

সব মৃত স্বপ্ন,

সব হেরে যাওয়া সকাল।

দুঃখকে ভয় দেখাতে

দীর্ঘ লাল ফিতা কিনে আনবো,

বেঁধে রাখবো যেন সে পালাতে না পারে—

যেন আর কাউকে

এভাবে গিলে না খায়।

এবারের মতো

সুদিন ফিরে আসুক পাঞ্জেরী,

আমি বেঁচে থাকার জন্য

রোজ খাজনা দেবো—

হাসির, সহ্যের,

অপমানের, নীরবতার।

চোখের ক্লান্তিতে

তুমি কিভাবে ঘুমিয়ে যাচ্ছো পাঞ্জেরী?

তোমার কি একটুও মায়া হয় না?

দেখো,

কত চোখ চেয়ে আছে কষ্টের আঁধারে—

তারা ঘুমায় না,

তারা অপেক্ষা করে।

একটা ভোর কবে ফিরবে পাঞ্জেরী?

আজ শব্দেরা আর্তনাদ করে,

তুমি কি শুনতে পাও?

দেখো—

এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই,

কারো কান্না আলাদা নয়,

কারো ক্ষুধা আলাদা নয়।

সবাই একই অন্ধকারে দাঁড়িয়ে

একই আলোর নাম উচ্চারণ করছে।

আজ ধর্ম নয়, কর্ম নয়—

পরিচয় শুধু মানুষ।

আজ তারা বুঝিয়ে দিচ্ছে

মানুষের চেয়ে বড় কোনো ধর্ম

এই পৃথিবীতে নেই।

আর কতদূর পাঞ্জেরী?

আর কত রাত?

আর কত বুক ফাটলে

ভোরের জন্ম হয়?

এবার ভোর আসুক—

রক্ত নয়, আলো নিয়ে।

ভয় নয়, শান্তি নিয়ে।

মৃত্যু নয়, জীবন নিয়ে।

পাঞ্জেরী—

এইবার ফিরো।

লেখা: আফরিন আক্তার নিলা

মনোয়ারুল হক/  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ