কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

আনোয়ার আজমী, বিশেষ প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি,
ঢাকা : সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মীদের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বওে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে আন্দোলকারী প্রায় ১০ ছাত্র নেতা আহত হয়েছেন। তবে এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ। ৩০ জুন এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এই দিন বেলা ১১টার সময় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনের আগে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে মারধর করা হয়।মারধরের একপর্যায়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। ছবি: দীপু মালাকারমারধরের একপর্যায়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। ছবি: দীপু মালাকারসাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের ভাষ্য, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল থেকে পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমানকে ছাত্রলীগের কয়েকজন তুলে নিয়ে গেছেন। তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের হামলায় তাঁদের ১২-১৩ জন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, আতাউল্লাহ, আরিফ, মামুন ও জসিমের নাম বলেন তিনি।

এর আগে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান এবিসিনিউজবিডিকে বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর পিস্তল ও রামদা নিয়ে হামলা চালায়। আমরা তাদের কাছে এটা প্রত্যাশা করিনি।’ রাশেদ খান ওই সময় আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পরে জানানো হবে।আন্দোলনকারীদের মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে উপস্থিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এ সময় মুখোমুখি অবস্থান নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় আন্দোলনকারীদের পাঁচ-ছয়জনকে মারধর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, দুপুর ১২টার কিছু পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের মোহাম্মদ আরশ উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘ধর ধর’ বলে তাঁকে মারতে থাকেন। এ সময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাঁকে রিকশায় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে দেখা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ