পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে যারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৪ মে) : বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র যেন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগিয়ে যাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে পালাবদলের ইঙ্গিত। সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে রয়েছে ১৯৮টিতে, আর অলইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে মাত্র ৮৯টিতে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে- পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হতে চলেছেন?
টানা তিন বার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের সেই ধারাবাহিকতা ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। এর আগেই অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, বিজেপি জিতলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলারই কেউ।
তার এই মন্তব্যের পর থেকেই সম্ভাব্য মুখ নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। যদিও দল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে সামনে আনেনি, তবুও একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম ঘুরছে আলোচনায়।
এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তার প্রভাব- সব মিলিয়ে তাকে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর- এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গণনায় নন্দীগ্রামে এগিয়েও রয়েছেন তিনি।
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি দলের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলে অজয় মুখার্জীর পর মেদিনীপুর জেলা থেকে দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার নজির তৈরি হবে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে উঠে আসছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্যের নাম। আরএসএসের আদর্শে গড়ে ওঠা এই নেতা গত কয়েক বছরে সংগঠনকে মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন
তার পাশাপাশি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নামও আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংগঠনের তৃণমূল স্তরে লড়াই গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান দলীয় মহলে বিশেষভাবে স্বীকৃত।
উত্তরবঙ্গ থেকে উঠে আসা নিশীথ প্রামাণিকের নামও সম্ভাব্য মুখ হিসেবে শোনা যাচ্ছে। কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় দলের সংগঠন শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
একইভাবে, আসানসোলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল তার স্পষ্ট বক্তব্য ও সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য আলোচনায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ ও জনপ্রিয় মুখ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে। বিশেষ করে শহুরে ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের দলীয় যোগসূত্র তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে।
তবে এই মুহূর্তে সবটাই সম্ভাবনা ও জল্পনার স্তরে রয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফল প্রকাশের পর দলীয় উচ্চ নেতৃত্বই পরিস্থিতি বিচার করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে- যা নির্ধারণ করবে বাংলার পরবর্তী রাজনৈতিক অধ্যায়। সূত্র: কলকাতা চব্বিশ
মনোয়ারুল হক/
