সকল ধর্মের মানুষকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই: জামায়াত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক (রাজশাহী), এবিসিনিউজবিডি, (৫ ফেব্রুয়ারি) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত করতে দেব না।
তিনি বলেন, এদেশে আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নারী-পুরুষ সবাই বসবাস করি। এই দেশে বহু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী আছে, সাওতাল ভাই-বোনেরা আছে। আমরা সবাইকে নিয়েই আমাদের বাংলাদেশ গড়তে চাই।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ একটা জাতি নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমাদের ১১ দলের স্লোগান হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আমরা আর কাউকে মানুষে মানুষে হিংসা ও বিদ্বেষ জাগিয়ে রাখতে দেব না।
তিনি বলেন, আমাদের কথা সাফ। আমরা আল্লাহর দরবারে ওয়াদাবদ্ধ, জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ- জনগণের রায়ের মাধ্যমে, ভোটের মাধ্যমে, ভালোবাসা ও সমর্থনের মাধ্যমে আল্লাহ যদি আমাদেরকে এই দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, ইনশাআল্লাহ আমরা কাউকে আর চাঁদাবাজি করতে দেব না। এই দেশে কারো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।
জামায়াত আমির বলেন, এই দেশে রাজার ছেলে রাজা হবে, বংশানুক্রমিক পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি এই দেশে আর চলবে না। এই দেশে রাজনীতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে। রাজনীতি হবে দেশপ্রেমের প্রমাণের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, এদেশে কোনো আধিপত্যবাদী রাজনীতি আর চলবে না। আমাদের প্রতিবেশীসহ সারা দুনিয়ার সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। সেই সম্পর্ক হবে সমতা এবং মর্যাদার ভিত্তিতে। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। এ কারণে আমাদের সোনার সন্তানেরা, আমাদের কলিজার সন্তানেরা সেদিন গুলিকে পরোয়া করে নাই। তারা দাঁড়িয়ে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, এই যুব সমাজের অঙ্গীকার এবং প্রত্যাশা আমরা পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। যদি এই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি, আমাদের রাজনীতি করার কোনো দরকার নেই। তারা যা চেয়েছে, সেই বাংলাদেশটাই গড়তে চাই। আমরা একটা মানবিক, বৈষম্যহীন, ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই।
জামায়াত আমির তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহর, প্রত্যেকটি জেলা কেন্দ্রে আমরা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করব এবং বিশেষায়িত হাসপাতালও গড়ে তুলব। শ্রমঘন এরিয়ায় শ্রমিকদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে।
তিনি বলেন, পুরনো রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। যেই রাজনীতি মানুষ গুম করে, যে রাজনীতি আয়নাঘর তৈরি করে, যে রাজনীতি দেশপ্রেমিক নেতাদেরকে খুন করে, যেই রাজনীতি আমার দেশের সমস্ত সম্পদ শেষ করে, জনগণ সেই রাজনীতিকে ১২ তারিখ লাল কার্ড দেখাবে। এজন্য আমরা সবাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলব, ইনআশাল্লাহ।
ডা. শফিকুর আরও বলেন, ৩৬ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটা বৈষম্যহীন ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ। এজন্য শিক্ষার্থীরা রাস্তায় স্লোগান দিয়েছে ‘ইউ ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা ন্যায়বিচার চাই। ন্যায়বিচার সমাজে যখন কায়েম হবে, সকলেই তার পাওনাটা পেয়ে যাবে।
তিনি জনগণকে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদেরকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
এরপর জামায়াত আমির রাজশাহী জেলার ছয়টি আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক তুলে দেন।
জনসভায় রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা ড. কেরামত আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা’র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা আলম মিতু।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ শাহাব উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, রাজশাহী-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী, রাজশাহী-৫ আসনের প্রার্থী মনজুর রহমান ও রাজশাহী-৬ আসনের প্রার্থী নাজমুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মনোয়ারুল হক/
