শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টার
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২ ফেব্রুয়ারি) : প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিবাসীদের নৈতিক নিয়োগ, মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় যৌথ প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন।
দুবাইয়ে আবুধাবী ডায়ালগ-২০২৬ এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকালে রোববার সংলাপের দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্যকালে উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান।
তিনি এ প্ল্যাটফর্মকে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নৈতিক শ্রম অভিবাসনের জন্য একটি বিশ্বস্ত ও কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরাতাইজেশন মন্ত্রী ড. আব্দুর রহমান আব্দুল মান্নান আল আওয়ারের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রম প্রেরণকারী দেশ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে নিজ দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি গন্তব্য দেশগুলোর অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে কিছু কর্মী এখনও শোষণ ও অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন যা প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশের যৌথ দায়িত্বের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।
তিনি সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে শতভাগ ডিজিটাল ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট পোর্টাল চালু, প্রি-ডিপার্চার সহায়তা ও ওভারসিজ ওয়েলফেয়ার সার্ভিস জোরদার, দক্ষতা প্রশিক্ষণকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ এবং প্রতারণামূলক নিয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ।
সংযুক্ত আমিরাতের মানবসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে উপদেষ্টা দণ্ডপ্রাপ্ত ২১২ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর প্রতি সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সহজীকরণের বিষয়ে মানব সম্পদ মন্ত্রীর সাথে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা সীমিতকরণ নীতির কারণে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক প্রবাহ কমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভিসাজনিত নানা সমস্যা মোকাবেলা করেছেন। বাংলাদেশিদের জন্য সকল ধরনের ভিসা জটিলতা নিরসন করতে তিনি মানব সম্পদ মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
উপদেষ্টা পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী চৌধুরী সালিক হোসেন এবং ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্সের সচিব হ্যান্স লিও ক্যাকডাকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন, নৈতিক নিয়োগ ও অভিবাসী কল্যাণে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উল্লেখ্য, ৩১ জানুয়ারি দুবাইয়ের ইন্টারকন্টিনেন্টাল দুবাই ফেস্টিভ্যেল সিটিতে আবুধাবী ডায়ালগের অষ্টম মন্ত্রী পর্যায়ের সভা উদ্বোধন করা হয়। ১৭টি সদস্য দেশের প্রতিনিধি, সিনিয়র কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার লেবার সেন্টারের প্রতিনিধিরাও যুক্ত হয়েছেন।
মনোয়ারুল হক/
